কোমল হৃদয়ের অধিকরীরা সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়। মানুষ স্বাভাবগতভাবেই তাদের ভালোবাসে এবং তাদের সঙ্গে মিশতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কেননা তাদের সঙ্গে মিশলে কোনো ধরনের ক্ষতি বা অরাজক ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে না। ইসলাম সবাইকে কোমল হতে বলে, সবার সঙ্গে নরম আচরণ করতে বলে। এটা ইসলামের মহান শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। আমাদের সবারই উচিত হৃদয়ের কঠোরতাকে দমিয়ে রাখা এবং সর্বদা কোমলতার চর্চা করা। কেননা কঠোর হৃদয় সত্য গ্রহণে ব্যর্থ হয়। কঠোরতার গুণ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত করে। কঠোরতা দূর করতে ইসলাম মানুষকে কিছু আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। এমন পাঁচটি আমল উল্লেখ করা হলো।
জিকির করা : বেশি বেশি মহান আল্লাহর জিকির মানুষের অন্তরের কঠোরতা দূর করে তাতে কোমলতা সৃষ্টি করে। হৃদয়ের অস্থিরতা দূর করে তাতে প্রশান্তি বয়ে আনে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা মোমিন তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা প্রশান্ত হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণ অন্তরগুলোকে প্রশান্ত করে।’ (সুরা রাদ ২৮)
কান্না করা : মহান আল্লাহর দরবারে কান্না করলে অন্তরের কঠোরতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হজরত রাসুল (সা.) অন্তরের কঠোরতা থেকে আল্লাহর দরবারে মুক্তি চাইতেন। তিনি দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে চারটি বিষয় থেকে মুক্তি চাই। এমন জ্ঞান, যা উপকারে আসে না। এমন অন্তর, যা (আপনার ভয়ে) ভীত নয়। এমন আত্মা, যা তৃপ্ত নয়। এমন দোয়া, যা কবুল করা হয় না।’ (সুনানে নাসায়ি)
আল্লাহর কাছে চাওয়া : অন্তরের কঠোরতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অন্যতম আমল হলো, মহান আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তার বান্দার ডাকে অবশ্যই সাড়া দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা মোমিন ৬০)
আল্লাহ ও নবীজিকে ভালোবাসা : আল্লাহ ও তার রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসা ইমানের পূর্বশর্ত। যার মনে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা জাগে, তার হৃদয়ে কঠোরতা থাকতে পারে না। সে হৃদয় উর্বর হয়ে ওঠে এবং সে ইবাদতের স্বাদ পেতে শুরু করে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে, সে ইমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে। আল্লাহ ও তার রাসুল তার কাছে অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় হওয়া। কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা। কুফরিতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অপছন্দ করা।’ (সহিহ্ বুখারি)
কল্যাণমূলক কাজ করা : অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে, এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে অন্তরের কঠোরতা দূর হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি তুমি তোমার অন্তরকে নরম করতে চাও, তবে মিসকিনকে খাবার খাওয়াও এবং এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দাও।’ (সহিহুল জামে)
হৃদয়ের কঠোরতা দূর করতে এই আমলগুলো অত্যন্ত কার্যকরী। তাই যাদের হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ কঠোরতাও রয়েছে তাদের জন্য উচিত হলো উল্লিখিত আমলগুলো নিয়মিতভাবে করে যাওয়া। এতে মহান আল্লাহ তার হৃদয়ের কঠোরতা দূর করে দেবেন এবং তার হৃদয়কে প্রশান্তেকরবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
