লঘুচাপের আভাস শঙ্কা আছে ঘূর্ণিঝড়েরও

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:০৫ এএম

কার্তিকের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে ফের একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ঝরেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী রবিবার নাগাদ মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেটি শেষ অবধি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন।

অবশ্য অক্টোবর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এবার অক্টোবরের প্রথমার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে বিদায় নেবে। সেই সঙ্গে এই মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

বিষয়টি উল্লেখ করে মনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সাধারণত সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় এই সময়েই হয়েছে। সেটি মাথায় রেখে বলা যায়, এই মাসে একটি ঘূর্ণিঝড় সাগরে সৃষ্টি হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আগে প্রথমে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে হবে। সেটি পরে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপে রূপান্তর হবে। তারপর হবে ঘূর্ণিঝড়।

তিনি বলেন, আগামী রবিবার বা সোমবার নাগাদ মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। গতকালের আবহাওয়ার বুলেটিনেও সেটি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেটি শেষ অবধি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি। সেটি হয়তো আগামী সোম-মঙ্গলবার নাগাদ নিশ্চিত করে বলা যাবে।

এদিকে গতকাল আরেক আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আগামী সোম বা মঙ্গলবারের দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে কি নাÑ অনলাইনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমটির এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যেটা দেখতে পাচ্ছি, এটি ভারতের উড়িষ্যা বা পশ্চিমবঙ্গের দিকে আঘাত হানতে পারে। তবে গতিপথ পরিবর্তন করে বাংলাদেশেও আঘাত হানার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ওমর ফারুক জানান, এবার ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হলে তার নাম হতে পারে ‘ডানা’।

আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশের দেওয়া নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়।

সবশেষ গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ বাংলাদেশ উপকূল ও পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানে। এরপর আরব সাগরে গত আগস্ট মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘আসনা’ সৃষ্টি হয়। ‘রেমাল’ নামটি প্রস্তাব করে ওমান। আর ‘আসনা’ ছিল পাকিস্তানের দেওয়া নাম। এবার তালিকায় রয়েছে কাতারের দেওয়া নাম ‘ডানা’।

এর আগে গেল বছর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় মিগযাউম, যা পরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে। সে ঝড়ের তেমন কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে ঢাকায় বৃষ্টি ঝরেছে। এছাড়া খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু-কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও বরিশালের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগের ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে দেশের সর্বোচ্চ ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া উত্তরের জেলা রাজশাহী বিভাগের তাড়াশে ২৮, বগুড়ায় ২৬, ঢাকার আরিচায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করার তথ্য দিয়েছে অধিদপ্তর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত