দুমকিতে অভিযান এড়িয়ে চলছে ইলিশ শিকার!

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৩৫ এএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ। দেদারছে শিকার হচ্ছে মা-ইলিশ। একদিকে চলছে মৎস্য বিভাগের অভিযান অন্য দিকে জেলেরা নির্বিঘেœ শিকার করছে মা-ইলিশ। ধীর গতির অভিযান ট্রলারে নাগাল পাচ্ছে না জেলেদের। ঘাটের পরিত্যক্ত নৌকা-জাল জব্দ করার প্রতিযোগিতা করছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযানে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৫০০ মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল এবং তিনটি নৌকা আটক করা হলেও থামেনি ইলিশ শিকার।

স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উপজেলার পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশের অভয়ারণ্য খ্যাত রাজগঞ্জ-চান্দখালী, আলগির হাজিরহাট, লেবুখালী, পশ্চিম আংগারিয়া, বাহেরচর, কদমতলা, পাংসিঘাট, সন্তোষদি, চরগরবদি ও কলাগাছিয়ার জেলে পল্লীগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বইছে। নৌকা-জাল ঠিকঠাক করে দিনে-রাতে সমান তালে চলছে ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা। চোখ-কান সবার খাড়া। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা যেন তাদের কাছে থোরাই কেয়ার। মোবাইল ফোনের সংকেতে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় লুকানো নৌকা-জাল নিয়ে দ্রুত নদীতে নেমে পড়ছে জেলেরা। অভিযানের ট্রলার দেখা মাত্র নদীতে জাল ফেলে রেখেই দ্রুত তীরে ওঠে পথচারী হয়ে যায়। এভাবেই চলছে নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা।

সূত্রটি জানায়, নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের আহরিত শত শত মন ইলিশ প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্দিষ্ট পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

পাইকারদের স্বজনের বাড়িতে বাড়িতে ককশেডে মজুদ করে রাখছে। নিষেধাজ্ঞা কেটে গেলে তা খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করবে।

অভিযান প্রশ্নে সূত্রটি জানায়, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের প্রতিটি অভিযানের আগাম খবর নিশ্চিত হয়েই জেলেরা নৌকা জাল নিয়ে নদীতে যায়। অভিযানের ট্রলারের গতিবিধি লক্ষ্য রেখেই জেলেরা জাল ফেলে এবং সময় মতো তুলে নেয়। ট্রলার যে দিকে যায় তার বিপরীত দিকের জেলেরা তখন নদীতে নিশ্চিন্তে জাল ফেলে। মাত্র ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই জালে মাছে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, অবরোধকালে মৎস্য বিভাগের গতিবিধি নজরে রেখে একাধিক চক্র মোবাইল ফোনে জেলেদের সতর্ক মেসেজ দেয়। আর এ কারণেই বিশেষ অভিযানে ওইসব জেলেরা ধরা পড়ছে না।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে টানা তিনদিনের বিশেষ অভিযানে ২৫ হাজার ৫০০ মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল এবং তিন জেলের নৌকা আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত জেলেদের কাউকেই আটক করতে পারেনি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাত্র একটি টিমের পক্ষে ২০-৩০ কি. মিটার নদী একই সময়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। যে দিকে যাই বিপরীত দিকে ফাঁকা থেকে যায়। বাজেট স্বল্পতা, দ্রুতযান (স্পিডবোট) না থাকা ও জনবল বলের সীমাবদ্ধতা কারণে ইচ্ছা থাকলেও অভিযুক্ত জেলেদের আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। তার পরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ডিএফও মহোদয়ের নেতৃত্বে পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের আলাদা আলাদা টিমের অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত