সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে ঘরবাড়ি ও আঙিনায়। তিন বছর ধরে দুর্ভোগে দুই শতাধিক পরিবার। বছরের ছয় মাস পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করে জামালপুর পৌর শহরের ফুলবাড়িয়া দড়িপাড়া ও জঙ্গলপাড়া গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মানুষ। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তলিয়ে যায় সড়ক ও ঘরবাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রথম শ্রেণির পৌরসভার ট্যাক্স দিয়েও মিলছে না নাগরিক সেবা। তবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাগ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন পৌরসভার প্রশাসক।
জামালপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের একেবারে সামনে ফুলবাড়িয়া দড়িপাড়ার অবস্থান। জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে একটি সংযোগ সড়ক এলাকায় ঢুকেছে। তার পাশর্^বর্তী জঙ্গলপাড়া এলাকা। ওই দুই এলাকার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব বাড়িঘর, রাস্তা কিংবা আঙিনায় পানি প্রবেশ করে। এ পানি সহজে নামতেও চায় না। প্রায় তিন বছর ধরে এমন অসহনীয় জলাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে সংযোগ সড়ক দড়িপাড়া এলাকায় ঢুকেছে। ওই সংযোগ সড়ক থেকে নামলেই হাঁটুসমান পানি। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় পানির মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ভরপুর। ভাসমান আবর্জনা ও পানির দুর্গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল। একেবারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। পানি ভেঙে এলাকাটিতে প্রবেশ করতেই দেখা গেল প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও ঘরে পানি। অনেকেই খাটের ওপর বসে আছে।
ফুলবাড়িয়া দড়িপাড়া এলাকার আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বন্যা হয়নি। তবুও বাড়ির আঙিনায় হাঁটুপানি। তিন বছর ধরে এলাকাটির পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিকল। তবুও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী খানম বলেন, ‘ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত প্রকল্পগ্রহণ করে ট্রেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। আশা করি আগামী শীতের সময় পৌরসভার এ ধরনের সব সমস্যার সমাধান হবে।’
