দেশের বিদ্যমান আইনে নির্বাচন কমিশন গঠনে দ্রুত সার্চ কমিটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি হালনাগাদ ভোটার তালিকা করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম।
তিনি বলেন, এ কমিটি ঠিক করবে কারা নির্বাচন কমিশনার হবেন। কমিশনাররা এসেই নির্বাচনের পরবর্তী কাজ শুরু করবেন। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সবকিছু গঠিত হবে।
গতকাল শনিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের পর রাতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজ আলম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দলগুলোর নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের গণহত্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণহত্যার উসকানিদাতাদের বিষয়সহ দ্রব্যমূল্য বিষয়ে কথা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও শরিক দল নিষিদ্ধের বিষয়েও কথা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের তিনটি অবৈধ পার্লামেন্ট নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। এটা বাতিলের বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা অবৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে যারা শক্তিশালী করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিষয়ে আলাপ হয়েছে। আওয়ামী লীগকে জাতীয় পার্টি নীরব সমর্থন দিয়েছে এবং ভোটে অংশ নেয়। জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন ও সংস্কার নিয়েই বেশি কথা হয়েছে জানিয়ে মাহফুজ বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সরকার এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নির্বাচন কমিশন সংস্কার এসব কাজ সমানতালে চলবে বলেও জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘যারা জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ৫ আগস্টের পর তিন দিন কোনো সরকার ছিল না। পুলিশ মাঠে ছিল না। যারা পালিয়েছেন, তারা কীভাবে গেলেন সে বিষয়েও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’
বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সব নিয়ম মেনে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
