উত্তরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান, তিনশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:১৮ পিএম

রাজধানী উত্তরার ১৫ নং সেক্টরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও রাজউকের যৌথ অভিযানে অবৈধ বাড়ি , ফুড কোর্ট ও ব‌উ বাজার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টর ও মেট্রোরেল দ্বিতীয় নম্বর স্টেশনের আশেপাশে প্রায় তিনশ দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।

এ সময় যৌথ উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ায় সেখান থেকে তিনজন নারীসহ আরও কয়েকজন পুরুষকে আটক করেছে তুরাগ থানা পুলিশ। তাদের তুরাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেছে আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রত্যেক মাসে ওই বাজার থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকার চাঁদা তুলতো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ৫ আগস্টের পর বাজারটি দখল করতে চায় বিএনপির লোকজন। 

এ বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটি ঝামেলাও হয়েছে। এছাড়া রাত হলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো এখানে। চুরি ছিনতাই ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। আর কিশোরগ্যাংয়ের উৎপাতে সবাই আতঙ্কে থাকতো। 

এ বিষয়ে বাজার কমিটির কয়েকজনের সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে কল দিলে তারা এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হয়নি। কিন্তু একজন ব্যবসায়ী নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দেশ রূপান্তরকে জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই বউ বাজারে ব্যবসা করছিলাম। এখানে প্রায় ১২০টির মতন দোকান রয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, রাজ‌উক ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই আমাদের এই বাজারটি চলত। ৫ আগস্টের পর সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। বাজারে আমার একটি দোকান আছে। আমার আর কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। এই সময় কোথায় দোকান করব সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। প্রশাসনের উচিত ছিল আমাদের বেশ কিছুদিন সময় দেওয়ার। যাতে সবাই অন্য কোথাও দোকানের ব্যবস্থা করতে পারে। যৌথ অভিযানে সেখানে সবকটি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তামজিদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই এখানে উচ্ছেদ অভিযান হবে বলে আমরা তাদের জানিয়েছি। অনেকেই এখান থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে গেছে কিন্তু বেশ কিছু স্থাপনা রয়ে গেছে যা রাজ‌উকের কর্তৃপক্ষ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেয়। এছাড়া এখানে কয়েকজন বাধা প্রধান করছিল তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের আজকের এই অভিযান। 

অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রা‌জ‌উকের জোন এক এর পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় স্থাপনা করায় সেনাবাহিনীকে রাজ‌উক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।১৫/১৬/১৭ নম্বর সেক্টরে অবৈধ সকল স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এটি চলমান একটি প্রক্রিয়া। আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি সরকারি জায়গায় কেউ অবৈধভাবে দখল বা কোন স্থাপনা করবেন না। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত