পলাতক হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে বিতর্ক কেন : নজরুল

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৩৪ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘একজন শাসক (শেখ হাসিনা) যখন পালিয়ে যান তখন তিনি পদত্যাগ করলেন, কি করলেন না, তাতে কিছু আসে যায় না। যে পালিয়ে যায় তার পদত্যাগ করা বা না করায়, কী আসে যায়। সে তো পলাতক। এ নিয়ে প্রসঙ্গটা পত্রিকায় তোলাটা সন্দেহজনক। এটা একটা দুশ্চিন্তার বিষয়, কেন হচ্ছে এটা, সরকার দায়িত্ব খোঁজ নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নজরুল এসব কথা বলেন।

নজরুল বলেন, ‘এই প্রসঙ্গে (ছাত্র-জনতার বিপ্লবে ৫ আগস্ট) আমি দুটি ঘটনার প্রতি আপনাদের (শ্রোতাদের) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। রাষ্ট্রপতি তিন বাহিনী প্রধানকে নিয়ে বলছেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং সেই পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করেছেন। তারপর এ নিয়ে কোনো কথা থাকে? পরে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে (সজীব ওয়াজেদ জয়) বলল, উনি পদত্যাগ করেননি। তারপর দেখলাম, শেখ হাসিনা নিজে এক টেলিফোন কনভারসেশনে বলছেন, পদত্যাগ করার কথা আমি ওইভাবে পদত্যাগ করিনি। তার মানে পদত্যাগ করেছেন তিনি। যেভাবে হোক পদত্যাগ তো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তারা স্থায়ী বা অস্থায়ী এটা কোনো কথা নয়। তাদের দায়িত্ব হলো জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই বলে তাদের লোকরাই দেশে নেই, ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যে নেই, সমস্যা সৃষ্টি করার সক্ষমতা নেই, এ কথা বলা ভুল। অন্যায় দমনের দায়িত্ব তো ফাইনালি সরকারের ওপর। আমরা সহযোগিতা করতে পারি কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ হয়ে অন্যায় দমন করতে পারি না। সরকারকে অনুরোধ করব, মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে, জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল করতে ব্যবস্থা নিন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা অত্যন্ত স্বচ্ছ ও ভদ্র। কিন্তু রাজনৈতিক শক্তি এবং চেতনা দ্বারা দেশ শাসন করা অন্য জিনিস। এখানো হয়তো তারা পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। যেটুকু সংস্কার করা প্রয়োজন, ততটুকু করতে পারবেন না। অনেক কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনগুলো হয়তো কিছুটা সুবিধা আমাদের দেবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের যদি কোনো মতামত না থাকে তাহলে তারাও কিন্তু বিভ্রান্ত হবেন। তখন তারা সঠিক সুপারিশমালা দিতে পারবে না। সেজন্য সব সংস্কার হাতে না নিয়ে আজকে দেশকে যদি পুনর্গঠন করতে হয়, তাহলে অতিদ্রুত একটা নির্বাচন প্রয়োজন।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণফোরামের সমন্বয় কমিটির কো- চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ লেবার পার্টির নেতারা বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত