ডিএক্স গ্রুপের গ্যাং লিডার রনি ভুঁইয়া গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম

সাভারের আশুলিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, একাধিক হত্যা এবং অস্ত্র মামলার আসামি ডিএক্স গ্রুপের গ্যাং লিডার রনি ভুইয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিপিসি-২, র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার জালিস মাহমুদ খাঁন।

এর আগে র‌্যাব-৪ ও র‌্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাতে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রনি ভুঁইয়া আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বকুল ভুঁইয়ার ছেলে। তার বাবা বিএনপি নেতা হলেও রনি ভূইয়া যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সস্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি জড়িত থাকাসহ রনি ভূইয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আসামি রনি ভুইয়ার নেতৃত্বে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় বাইপাইল থেকে থানা রোড এলাকায় বেশ কয়েকজন ছাত্র-জনতার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে নিহত ছাত্র-জনতার পরিবারের সদস্যরা বাদী হয়ে রনিসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়ের পর থেকে আসামি রনি ভুইয়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। 

এ দিকে বিএনপি নেতার ছেলে হওয়ায় যুবলীগ নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারী রনি ভূইয়া গ্রেপ্তারের পর ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্থি ফিরেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, রনি ভূইয়ার একটি বিশাল গ্যাং রয়েছে। তার বাবা বকুল ভূঁইয়ার অর্থায়নে এবং প্রত্যক্ষ মদদে এই গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিনিয়ে নিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। অবিলম্বে গ্যাং এর অর্থদাতা বকুল ভুঁইয়ার গ্রেপ্তারসহ তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও ডিএক্স গ্রুপের গ্যাং লিডার রনি ভুঁইয়ার দ্বারা নির্যাতিত সোহেলা মিয়া বলেন, আমি জামগড়া আবু তালেব মোল্লা স্কুলের কাছে আল্লাহর দান রিক্সার গ্যারেজ ও সোহেল চা স্টোর নামক দোকান দিয়ে ব্যবসা করতাম। ৩১ আগস্ট দুপর ৩ টার দিকে ওই এলাকার মো. কফিল উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মো. বকুল ভূইয়া (৫৫), তার ছেলে রনি ভূঁইয়া (৩০), কালাম (৫৫),  ডিএক্স আলামিন (২৫), ডিএক্স সাইফুল (২৮), জিন গ্রুপের পানি আনোয়ারসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমার গ্যারজে ও দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে একটি ফ্রিজসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালামাল এবং গ্যারেজ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার অটো রিকশার বিভিন্ন পার্টস নিয়া যায়। এছাড়াও তারা আমার বাসায় হামলা করিয়া একটি ফ্রিজ, ২টি খাট, একটি ওয়ার্ডড্রপ, একটি ওয়াল সোকেসসহ আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার আসবাবপত্র জোরপূর্বক নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাঁধা দিলে আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারিয়া দেয়। পরে তারা আমার দোকান ও গ্যারেজসহ জায়গাটি দখল করে অন্য মানুষের কাছে ভাড়া দিয়েছে। কিন্তু আমি অনেক কষ্ট করে জমির মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুমন ভুইয়ার কাছ থেকে মাসিক ১৪ হাজার টাকা জমিটি ভাড়া নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তন হলে ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থাকায় যুবলীগ নেতা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যাবহারকারী রনি ভূইয়া এলাকায় দখল ও চাঁদাবাজিসহ ত্রাসের রাজত্ব রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। আমাকে ধরে নিয়ে রনি ভূইয়ার তার অফিসে নিয়ে বেধরক মারধর করেছে। বর্তমানে আমি ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে আছি। আমি তাদের কঠোর শাস্তি দাবির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, রনি ভূইয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা করা সত্বেও তার বাবা বকুল ভূঁইয়া বিএনপি নেতা হওয়ার গত ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। স্থানীয় আলম ভূইয়া হজে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মিথ্য মামলা দিয়ে এলাকায় আসতে দেয়নি। এই সুযোগে তার একটি জমি দখল করে ভাড়া দিয়েছে রনি ভূঁইয়া ও বকুল ভূইয়া।

সিপিসি-২, র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার জালিস মাহমুদ খাঁন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রনি ভূইয়া আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি বলে স্বীকার করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রভাব বিস্তার করে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত