সোহাগ কী সত্যি নিষিদ্ধ?

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ১২:১৪ এএম

ফিফার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নিষিদ্ধ করেছিল সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে। ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল ফিফা দুর্নীতি, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সোহাগকে ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর কিছুদিন পর বাফুফে তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। অথচ বছর ঘুড়তেই ফুটবল অঙ্গনে ঘুড়পাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন- সত্যিই কী নিষিদ্ধ হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিনের আমলে বাফুফেতে অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করা সোহাগ?

নইলে একজন নিষিদ্ধ ব্যক্তি কী করে বাফুফের নির্বাচনের আগের রাতে ডেলিগেটদের জন্য নির্ধারিত হোটেলে উপস্থিত থাকেন এবং নিজের সহধর্মিণীর জন্য ভোটারদের কাছে ভোটও চান! শুক্রবার তার সরব উপস্থিতি ভীষণ দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। উপস্থিত অনেকেই এতে বিব্রত এবং বিক্ষুব্ধ দুটিই হয়েছেন। 

হোটেল লবিতে সোহাগকে দেখা গেছে সস্ত্রীক বাফুফের বিদায়ী সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে বসে একান্তে আলাপও করতে।

এক সদস্য প্রার্থী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, 'বাফুফেটা পঁচে গেছে। নিষিদ্ধ একজন যিনি ফুটবলকে কলঙ্কিত করেছেন, তিনি কি করে এখানে থাকেন এবং একজন প্রার্থীর জন্য ভোট চান! বাফুফেকে কোন ব্যবস্থা নিতে না দেখে সত্যি অবাক হচ্ছি।' এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহউদ্দিনের কাছে। তিনি বলেন, 'বাফুফে কাকে নিষিদ্ধ করেছে, কে নিষিদ্ধ নন সেটা তাদের এখতিয়ার। সুতরাং এ বিষয়ে ব্যাখ্যাটা তারাই দিতে পারবে। তবে নৈতিকতার প্রশ্নে এরকম কারও উপস্থিতি কাম্য নয়। এ ব্যাপারে কোন প্রার্থী অথবা ডেলিগেট যদি আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেন, তবে আমরা বাফুফেকে বলতে পারি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।'

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারও এ ব্যাপারে বিব্রত। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, 'উনি বাফুফের কোন অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন না। তবে একটি আন্তর্জাতিক মানের পাঁ তারকা হোটেলে কেউ যদি কক্ষ ভাড়া করেন, তা নিয়ে তো আমাদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ওনাকে একজন প্রার্থীর হয়ে ভোট চাইতে দেখে আমরা হোটেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি যাতে তারা ব্যবস্থা নেয়। এরপরও যদি সুরাহা না হয় তবে আমরা দেখবো কী করা যায়।'

অথচ সোহাগ নিজেই জানালেন তিনি শুক্রবার সেই হোটেলে কোন রুম ভাড়া করেননি, 'আমি কেন রুম নিব এখানে? আমার তো ঢাকা শহরে নিজের বাসাই আছে।' তার মানে দাঁড়ায় সোহাগের হোটেলে উপস্থিতি স্ট্যাটাস সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ না নিয়েই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানেনই না একজন নিষিদ্ধ ব্যক্তি বহিরাগত হিসেবে ডেলিগেটদের জন্য নির্ধারিত হোটেলে উপস্থিত হয়েছেন এবং অবাধে স্ত্রী তাসমিয়া রেজোয়ানার জন্য ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। তাতে তো প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক- সোহাগ কী আসলেই নিষিদ্ধ?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত