স্বাধীন বাংলাদেশে বাহাত্তরের চেতনার মাধ্যমে একাত্তরের চেতনাকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একাত্তরের চেতনাকে রক্ষা করবে, কিন্তু বাহাত্তরের চেতনার জায়গা বাংলার মাটিতে হবে না।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বাংলাদশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের কমিটমেন্ট ছিল এদেশে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন তৈরি করা হবে না। বিজয় অর্জনের অল্প কিছুদিনের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে ছিনতাই করা হয়েছে। দেশের মানুষের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে একটি ভিন্ন দেশের সংবিধানের মূলনীতি গুলোকে বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। আর এভাবেই ১৯৭২ সালে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিনতাই হয়ে যায়। ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাহাত্তরের চেতনাকে একাত্তরের চেতনা বলে মার্কেটিং করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বাহাত্তরের চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করেছে। শুধু শেখ হাসিনা নয়, তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানও একাত্তরের চেতনা স্বাধিকারের আন্দোলনের চেতনাকে দুই পায়ে মাড়িয়েছেন। এ দেশের মানুষের ভোটাধিকারকে বুটের চাপায় পিষ্ট করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
সমাবেশ থেকে ছাত্রলীগের মতো যুবলীগকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছাত্রলীগের চেয়ে অনেক বেশি সন্ত্রাসী করেছে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ। যেভাবে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হয়েছে, একইভাবে যুবলীগ, হাতুড়ি লীগ ও হেলমেট লীগকে নিষিদ্ধ হতে হবে। শাহজালালের বাংলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আগামীতে আওয়ামী লীগ যেন তার ফ্যাসিবাদ নিয়ে যেন আর কোনো দিন বাংলার মাটিতে আবির্ভূত হতে না পারে। ছাত্র-জনতা, অন্তর্বর্তী সরকার, আলেম সমাজ, সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার আহ্বান পতিত স্বৈরাচারী হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসরা তাদের প্রভুর ঘরে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে। আগস্টের মহান বিপ্লবকে ব্যর্থ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আগস্টের এই বিপ্লব যদি ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। এই বিপ্লব যদি ব্যর্থ হয়ে যায়, বাংলাদেশে কোনো দেশপ্রেমিক জনতা থাকতে পারবে না।
খেলাফত মজলিস মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দিতে চাই ২০০৯, ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা যতগুলো গণহত্যা করেছে, প্রতিটি হত্যার জন্য তার ও সহযোগিদের বিচার করতে হবে। আমরা লক্ষ্য করেছি, ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এই খুনি হাসিনাকে ধরে এনে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। তার বিচার করতে হবে। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে নবী প্রেমিক জনতাকে হত্যার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে তার বিচার করতে হবে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনার রাজনীতি পর্যালোচনা করলে পাওয়া যাবে, তার রাজনীতির প্রথম দর্শন ছিল প্রতিশোধের রাজনীতি, দ্বিতীয় দর্শন ছিল বিভাজনের রাজনীতি। শেখ হাসিনা একজন বিধবা নারী। ছেলে মেয়ে দুসন্তান বিদেশে স্থায়ী। তাদের দেশে আসার কোনো ইচ্ছে নেই। এ রকম একটা নারী কোটি কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করার অর্থটা কী? মেগাপ্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করেছেন তিনি। তার কারণ এত টাকা তার প্রয়োজন ছিল না। শুধু এ জন্য করেছেন, বাংলাদেশ যেন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে অন্য একটি দেশের অঙ্গ রাজ্যে পরিণত করাই ছিল তার লক্ষ্য। এখন শেখ হাসিনার এই প্রতিশোধের রাজনীতির পতন ঘটেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে গোটা বাংলাদেশের মানুষকে বিভক্ত করে রেখেছিল। এমনকি দেশের ছাত্র-জনতা যখন অধিকারের জন্য রাজপথে নামল, বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্লোগান তুলল- তখন শেখ হাসিনা সকল ছাত্রকে রাজাকারের বাচ্চা বলে বিদ্রুপ করলেন। এর প্রতিবাদে সেদিন রাতের অন্ধকারে প্রতিটি শিক্ষাঙ্গন থেকে শ্লোগান উঠেছিল- ‘আমি কে, তুমি কে, রাজাকার রাজাকার’ । এভাবেই শেখ হাসিনার বিভাজনের রাজনীতি পরাজিত হয়েছে।
বিএনপি, জামায়াতসহ আওয়ামী লীগের নিপীড়নের শিকার রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনো পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় আসেনি। আমাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রেখে যে কোনো মূল্যে পতিত স্বৈরাচারের পুনর্বাসিত হবার রাস্তা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আল্লামা আলী ওসমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, আবুল হাসনাত জালালী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীদের ধরিয়ে দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার
অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম কাজ শহীদ পরিবারকে সহায়তা করা: ফরিদা আখতার
অপরাধের জন্য শুধু বদলিই পুলিশের শাস্তি হতে পারে না: সারজিস
পাকিস্তানে বাল্যবিয়ের শিকার ১৯ মিলিয়ন কিশোরী
‘আত্মবিশ্বাসী’ রিপাবলিকানদের বিপরীতে ‘আতঙ্কিত’ ডেমোক্র্যাটরা
জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইউক্রেনে ঢুকতে দেবেন না জেলেনস্কি!