জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রোভিসি পদের সুরহা হয়নি। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’ পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজ একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রোভিসি পদের বিষয়টি আইনে উল্লেখ নেই।
ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ ছাড়াই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ অবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করছেন প্রোভিসির পদ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বলছেন, নতুন ক্যাম্পাসের কাজ, আবাসন সংকট নিরসনসহ নানাবিধ কাজ এককভাবে ভিসির পক্ষে করা কষ্টসাধ্য। এ পদ ছাড়া অনেক কাজে রয়েছে ধীরগতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য খুব মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে। দেশে স্বীকৃত বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসি রয়েছে। উপাচার্য থাকার পরও আরেকটি পদ থাকা দরকার। যেটি তার অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক দেখভাল করবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ কিছু সংস্কারসহ এই সংস্কার প্রোভিসি পদটি প্রস্তাব করে অবিলম্বে সরকারের কাছে দেওয়া উচিত।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রোভিসির পদ নেই এবং এর আইনে এ ধরনের কোনো পদের বিধান রাখা হয়নি। তবে প্রশাসনিক এবং অ্যাকাডেমিক চাহিদার দিকে নজর দিলে প্রোভিসি পদ যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা যেতে পারে।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও হল প্রভোস্ট ড. সাবিনা শারমীন বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো প্রোভিসি। সে হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসি পদ থাকা জরুরি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে প্রোভিসির কথা উল্লেখ নেই, তাই আইন সংশোধন করে অতি দ্রুত প্রোভিসির পদ সৃষ্টি করা উচিত।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিঠুন মিয়া বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে প্রায় ১৭-১৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, সেই সঙ্গে ৭০০-এর মতো শিক্ষক রয়েছেন এবং ৫০০-এর অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। কাজেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের পরিধিও বিশাল। এ কাজগুলো উপাচার্য স্যারের পক্ষে এককভাবে করা কষ্টসাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের যে ধরন, পরিধি, সে বিবেচনায় এখানে একজন না একাধিক প্রোভিসি থাকা দরকার।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘প্রোভিসির পদ না থাকার পেছনে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। কখনো ভিসিরা মনে করেন যে, প্রোভিসির পদ তাদের ক্ষমতা খর্ব করতে পারে, যে কারণে এ পদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় না।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থী মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি পদটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গুরুত্বটা অনেকাংশেই বেশি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের পরিধিও ব্যাপক। একজন প্রোভিসির মাধ্যমেই এ সংকট থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক ইভান তাহসিভ বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বায়ত্তশাসনের কথা আমরা বলি মূলত ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে। এর জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিসির ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এখানেই আসে একজন প্রোভিসির ভূমিকা। ফলে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথেও প্রোভিসি পদের গুরুত্ব অবশ্যই আছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। সে ক্ষেত্রে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বরত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শুরু থেকেই প্রোভিসির পদের কথা উল্লেখ নেই। আইন যেহেতু সংসদে পাস হয়, এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার ছিল না। কিন্তু প্রোভিসি ছাড়া একটা বিশ্ববিদ্যালয় কল্পনা করা যায় না। আমাদের প্রোভিসি নিয়ে প্ল্যান আছে। আমরা অতি শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে দাবি রাখব প্রোভিসি পদ সৃষ্টি করার জন্য।’
