রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারিতে লাঠি হাতে ঢুকে পড়েছিলেন এক যুবক। হাতে লাঠি, মাথায় কালো কাপড়। পরনে হাফ হাতা সাদা গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট। তাকে দেখেই ভয়ে তটস্থ সবাই। লেকচার টেবিলের সামনে থেকে যুবক লাঠি হাতে মাঝখান দিয়ে পেছনের বেঞ্চে যান। সেখানে সবার উদ্দেশে তাকে কিছু বলতে শোনা যায়। এ সময় ক্লাস থেকে অন্য শিক্ষার্থীরা ভয়ে বের হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই যুবক বেঞ্চের উপর হাতের লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ভীত সন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আর তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে রাতের দিকে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বেশ কৌতূহল দেখা দেয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তাদের কলেজের বলে জানান।
জানা গেছে, সকাল ৮টায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক মানসিক রোগী কলেজের লেকচার গ্যালারিতে ঢুকে পড়েন। এসময় রোগীটি প্রলাপ বকার পাশাপাশি লাঠি দিয়ে মেঝেতে আঘাত করতে থাকেন। এতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে গ্যালারি থেকে বেরিয়ে যান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে ওই যুবককে লেকচার গ্যালারি থেকে বের করে নিয়ে যান দায়িত্বে থাকা স্টাফ।
ওই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে প্রকৃত ঘটনাও তুলে ধরেন তারা।
সলিমুল্লাহ মেডিকেলের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসনীম অর্চি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘একজন মানসিকভাবে অসুস্থ লোক লাঠি হাতে লেকচার গ্যালারিতে ঢুকে পড়েন। তিনি ক্রমাগত প্রলাপ বলছিলেন এবং এলোমেলোভাবে আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি দেখাচ্ছিলেন। পরে লেকচার গ্যালারির দায়িত্বে থাকা স্টাফ তাকে বের করে নিয়ে যান। এভাবে হুট করে একজন লেকচার গ্যালারিতে ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা থেকে ভিডিওটি পোস্ট করেছিলাম। কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর এটা তুলে ধরাই ছিল আমার উদ্দেশ্য।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নিকটবর্তী ডিভিশনের কয়েকজন সদস্য এসে কথা বলে গেছেন। এটা একটা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই ঘটনাকে কতিপয় ব্যক্তিবর্গ বিকৃত করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে যেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’
এ বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম শাহিন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে ওই যুবকটিকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ওই ক্লাসের কেউই তাকে চেনে না। কেউ কেউ বলছে সে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী। তবে আমরা কোনোটিই এখনও নিশ্চিত নই। আমি কাল (সোমবার) কলেজে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আরও জানার চেষ্টা করব এবং আমার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় যদি কোন ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
কলেজ অধ্যক্ষ আরও বলেন, দেখার পরই আমি স্থানীয় পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং তাদের ভিডিওটি দিয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছে ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
পরে কলেজ প্যাডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ বিবৃতি দেওয়া হয়। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার সকালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারিতে হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্যহীন এক লোক লাঠি নিয়ে গ্যালারিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অতিদ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।। গ্যালারি সহ কলেজ প্রাঙ্গণের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি। আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অরাজনৈতিক পরিবেশকে কলুষিত করার প্রয়াসে জড়িত পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের প্রোপাগাণ্ডাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
দেশের অন্তত আড়াই লাখ শিশু ক্রনিক কিডনি রোগে ভুগছে
আব্রাহাম লিংকন কেন বিখ্যাত
১৮ বছর পর মনোহরদী বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন