নাটক, ওটিটি, সিনেমা একসঙ্গে তিন মাধ্যমেই সরব খায়রুল বাসার। নাটকেই সময় দেওয়া হচ্ছে বেশি তার। এর পাশাপাশি ব্যাটে বলে মিললে তার দেখা মেলে ওয়েবে কিংবা সিনেমাতেও। ইতিমধ্যে ওয়েবে ভিন্নমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার বেশ কিছু সিনেমা।
এরমধ্যে শেষ করলেন একটি জনসচেতনতামূলক কাজ। মাকসুদুল হক ইমু পরিচালিত এই কাজটিতে বাসারের সঙ্গী ছিলেন সাফা কবির। কাজটি প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘এটা ইউএনডিপির একটা প্রজেক্ট। তিন দিন শুট করেছি। একটা জনসচেতনতামূলক প্রজেক্ট। ভালো লেগেছে এ রকম একটা কাজ করে।’
এটি ছাড়াও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা নাটকের শুটিং শেষ করেছেন বলেও জানান তিনি। রঙের শহর, বীভৎস ভুবন, স্বপ্নচারিনীসহ আরও কিছু নাম চূড়ান্ত না হওয়া নাটকের শুটিং শেষ করেছেন, যা শিগগিরই উন্মুক্ত হবে।
ওটিটি এবং সিনেমার ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘কমার্শিয়াল চাপ নেই এরকম বেশ কয়েকটা সিনেমা করা হয়েছে। যদিও কমার্শিয়াল এবং আর্ট ফিল্ম বলে সিনেমাকে একটু আলাদা করা হয়, আমার কাছে মনে হয় সিনেমা সিনেমা-ই। আর আমি একটু ফিকশনাল, সাহিত্য কিংবা ইতিহাস নির্ভর সিনেমাগুলো করতে পছন্দ করি। যেগুলো একটু আলাদা এবং ভিন্নমাত্রার। যেমন সর্বশেষ আমি ‘কাজলরেখা’ করেছিলাম। মৈমনসিংহ গীতিকা আমাদের সাহিত্যের বিশাল বড় একটা অংশ। এরকম একটা বিষয় নিয়ে শিগগিরই নিশ্চয় কোনো কাজ হবে না। আর হলেও সেটা কবে আমরা জানি না। এরকম কাজগুলোতে থাকাটা আমার কাছে জরুরি মনে হয়েছে তাই করেছি। তারপর ‘বনলতা সেন’ সিনেমা করলাম, যেটা জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী কাজ। জীবনানন্দ দাশ আমার খুবই প্রিয় কবি, তার চরিত্রে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় কিছু।’
যোগ করে আরও বললেন, ‘সঙ্গত কারণেই আমি কমার্শিয়াল সিনেমার ডাক পেলেও সেগুলো করা হয় না। কারণ আমি সাহস পাই না। আমাদের এখানে নিয়মিত পাঁচজন পরিচালক নেই চলচ্চিত্রে। সেসব সিনেমার ল্যাঙ্গুয়েজই আলাদা, আলাদা প্রস্তুতির দরকার, সময়ের দরকার। এখন বর্তমান যে অবস্থা একটা সিনেমা করে বসে থাকলে চলবে না আমার। আমার ওপর আমার পরিবার নির্ভরশীল। একটা কাজ করে বসে থাকলে চলা সম্ভব হবে না। যেহেতু অভিনয়টাই করি, এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা বা কিছু নেই; এটা করেই আমাদের চলতে হয়। সেসব চিন্তা করে সাহস পাই না। এরমধ্যে যে সিনেমাগুলো করেছি সেগুলোর আলাদা একটা স্বাদ আছে। সেগুলো হয়তো কোনো ফেস্টিভ্যালে যায় নয়তো ওটিটিতে যায়। ওটিটির সিনেমা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই, আমি সেসব করতে চাই।’
ভালোবাসা দিবস কিংবা ঈদের এখনো বাকি কয়েক মাস। তবে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। এই দিবসগুলোকে সামনে রেখেই এখন কাজ করছেন বলে জানালেন খায়রুল বাসার।
তিনি বলেন, সামনেই তো ভালোবাসা দিবস, এরপর ঈদ। এখন ওই দিবসগুলোকে ঘিরেই কাজের পরিকল্পনা চলছে। মিজানুর রহমান আরিয়ান, ভিকি জাহেদসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে পরিকল্পনা হচ্ছে। হয়তো শিগগিরই শুটিং করব।’
মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার দুই সিনেমা ‘বনলতা সেন’ ও ‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ও নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত এ সিনেমা দুটিতে খায়রুল বাসারের বিপরীতে দেখা যাবে মাসুমা রহমান নাবিলা ও ললনা নূরকে।
