বলিউডে ফেরার অপেক্ষায়

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪৬ পিএম

চলতি মাসের শুরুতে তিরুচিত্রম্বলম (২০২২) সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান নিত্যা মেনন। তার মতে, এই স্বীকৃতি সিনেমার চেয়ে বেশি কিছু। কারণ তার পুরো ক্যারিয়ারে সবসময় ঝুঁকি নিয়েছেন তিনি এবং তাতে কখনো পিছপা হননি। ফলে জাতীয় স্বীকৃতি তার ঝুঁকি নেওয়াকে এক ধরনের বৈধতা দেয়।

নিত্যা মেনন বলছেন, আমি সিনেমা বাছাই করি মন থেকে। খ্যাতির মোহ আমাকে কখনো টানেনি। সিনেমা আমার কাছে সবসময় নিজেকে সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করার মাধ্যম। আমি চাই আমার সিনেমা মানুষকে প্রভাবিত করবে।

অভিনেত্রী বলেন, আমার কাছে তিরুচিত্রম্বলমের বিস্তারিত গল্প বা চিত্রনাট্য ছিল না। ধানুশ আমাকে ফোন করেন এবং ১৫ মিনিট সময় নিয়ে বলেন সিনেমাটি কী নিয়ে। আমাকে বলা হয়েছিল সিনেমাটি আবেগ দিয়ে লেখা এবং সেভাবেই তৈরি করা হবে। তাও এমন সময়ে যখন পুরুষসর্বস্ব অ্যাকশন সিনেমা ভালো ব্যবসা করছে। এটা সত্যি মিষ্টি গল্পের একটা সিনেমা। তিনি বলেন, এই জাতীয় পুরস্কার এমন একটা স্বীকৃতি যেটা পেয়ে আমি বুঝলাম শিল্পকে বিমূর্ত বা ভারী কিছু হতে হবে না।

নিত্যা বলেন, সম্প্রতি আমার এক বন্ধু বলেছে, জাতীয় পুরস্কার আমাকে একটা স্বীকৃতি দিয়েছে, সেটা হলো দুর্দান্ত অভিনেত্রী হতে আমাকে অন্ধকার জগৎ নিয়ে বা হতাশাজনক গল্পে অভিনয় করতে হয়নি। গত কয়েক বছর, বিশেষ করে কোভিড মহামারীর পর কঠিন সময় পার করছে ইন্ডাস্ট্রি। এর মধ্যে আমি এমন শিল্পের কথা ভাবছি যেটা মানুষের আত্মার সঙ্গে কথা বলে। তাদের জীবনের কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়।

‘ইনটু দ্য শ্যাডোস’ এবং ‘মিশন মঙ্গল’ (২০১৯) নামের দুটি বলিউড সিনেমায় অভিনয় করেছেন নিত্যা। ভবিষ্যতে হিন্দিতে আরও কাজ করতে চান তিনি। তবে বলিউডের প্রস্তাব খুব একটা তার কাছে যায় না। অভিনেত্রী মনে করেন, এটি রোমান্টিক কমেডির প্রতি তার অনুরাগের কারণে হতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমিই একমাত্র শিল্পী যিনি সক্রিয়ভাবে রম-কম সিনেমায় কাজ করছি। এসব সিনেমা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য; যেগুলো দর্শকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। তবে আমি যে কোনো ভাষার সিনেমা করতে ইচ্ছুক। আমার প্রত্যাশা এই জাতীয় পুরস্কার আমাকে আরও হিন্দি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ দেবে।

এদিকে কিছুদিন আগে বডি শেমিং নিয়েও কথা বলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেত্রী। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নিত্যা মেনন বলেন, আমি যখন সিনেমা জগতে পা রেখেছিলাম, তখন একটি তেলেগু সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার কোঁকড়ানো চুল, মোটা, খাটো শারীরিক গঠন নিয়ে সমালোচনা করে কথা বলেছিলেন। তাদের মন্তব্যে মাথা ঘামিয়ে আমি আমার পরিচয় বদলাইনি। আজও তা-ই রয়ে গেছে।

আমার ভেতরের শিল্পীই জয়ী হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তার মতে, ‘কলাকুশলী হোন বা অন্য কেউ, তাদের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করা নিচু মানসিকতা। তবুও মানুষ এভাবে কষ্ট দেয়।’

সবশেষে রঙিন জীবনে আসার পর কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে নিত্যা বলেছেন, ছোটবেলায় যেমন ছিলাম, তেমনই আছি। আমাদের হাতে টাকা এলে, নাম পেলে ভেতরে যা থাকে, তা-ই বাইরে আসে। কেউ বদলায় না। বাস্তবতার বাইরে আসে টাকা, নাম এলে।

বেঙ্গালুরুর কন্নড় মেয়ে নিত্যা বর্তমানে ‘ইডলি কড়াই’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন ধানুশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত