৩৫ বছর পর প্রকাশ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:০৪ এএম

ক্যাম্পাসে সকল দলের অংশগ্রহণে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাকি স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে সভাপতি হারুনুর রশি রাফি ও সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মুহিব এ দাবি জানান।

ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হারুনুর রশিদ রাফি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ), সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মুহিব বাংলা বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের ( ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) ও প্রচার সম্পাদক  আবদুল্লাহ আল মামুন সাকি দর্শন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে সুস্থ ধারার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে ছাত্রশিবির সর্বদা প্রস্তুত। আবাসিক হলগুলোতে কোন ধরনের দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, মাদকের বিস্তার রোধে ছাত্রশিবির অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ আনয়ন, গবেষণামুখী শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবায়ন, সুস্থ ধারার সংস্কৃতির বিকাশ ও নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে ছাত্রশিবির কাজ করে যাবে। ছাত্রশিবির চায় ছাত্র সংসদ কেন্দ্রীক সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে আসুক।

ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ  করা হয়নি দাবি করে তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ছাত্রশিবিরকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে নিষিদ্ধের একটি বয়ান তৈরি করে এসেছে। আদতে এই বয়ানের কোনো সত্যতা নেই। ১৯৮৯ সালের ১৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১৪২তম সভায় শিবির নিষিদ্ধের প্রস্তাবনা আসলেও এরকম কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। বরং সভার সিদ্ধান্ত ছিল ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাবহির্ভূত বিধায় এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব নয়'। কোনো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে না। ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধকরণ ও ট্যাগিং রাজনীতি মূলত ফ্যাসিবাদ কায়েমের সহায়ক শক্তি হিসেবেই কাজ করেছে।

১৯৮৯ সালের পর থেকে ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ রাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে বলে প্রচলিত রয়েছে। জানা গেছে, ১৯৮৯ সালের ২৬ আগস্টে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র হাবিবুর রহমান কবির নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত