দুই যুবককে নির্যাতন করে ক্ষতস্থানে মরিচের গুঁড়া

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৫৪ এএম

চোর সন্দেহে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে দুই যুবককে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া আবদার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের ওই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

পেটানোর পর আহতদের শরীরের ক্ষতস্থানে মরিচের গুঁড়া আর লবণ লাগিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে। তবে পুলিশ তাদের সাহায্য বা হাসপাতালে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা করেনি। আহতদের থানায় অভিযোগ দিতে বলেছে।

নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে একজনের নাম মাইনুদ্দিন সোহেল (২৬)। তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ভাতাদিয়া গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে। সাইটালিয়া গ্রামের ইরেক্টস পুলস অ্যান্ড স্টাকচারস লিমিটেড নামে একটি কারখানায় চাকরি করেন। কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের আবাসিক ভবনেই থাকতেন তিনি। অন্য যুবক আলমগীর হোসেন (২৪) শ্রীপুরের আবদার গ্রামের আছিম উদ্দিনের ছেলে। তিনিও একই কারখানায় চাকরি করেন।

নির্যাতনের শিকার মাইনুদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাতের শিফটে কাজ শেষে তিনি ও তার সহকর্মী আলমগীর ভোরের দিকে কারখানার মূল গেটের বাইরে চা খেতে যান। এ সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন লোক জোরপূর্বক তাদের সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায়। প্রথমে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে তাদের মারধর করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বাড়ির পাশে নিয়ে গাছে বেঁধে রাখা হয়। সেখানেও নির্যাতন চালানো হয়।

তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের চরম নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে মরিচের গুঁড়া ও লবণ লাগিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।’

মাইনুদ্দিনের বড় ভাই মহিউদ্দিন জানান, সবার হাতে-পা ধরলেও কেউ তাদের ছাড়তে এগিয়ে আসেননি। একপর্যায়ে নির্যাতনকারীরা এক লাখ টাকা দাবি করে। এরপর নিরুপায় স্ত্রী গয়না বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকার ব্যবস্থা করে তাদের দেন। সেই টাকা নির্যাতনকারীদের একজনের কাছে দেওয়ার পর তাদের দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মো. জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, ‘খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আহতরা কোনো অভিযোগ দেননি। তাদের কোনো স্বজনও অভিযোগ করেননি। আমরা তাদের অভিযোগ দায়ের করতে বলেছি। অভিযোগে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত