গণভবনকে জাদুঘরে রূপ দিতে লেখক ড. এবাদুর রহমানসহ ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। গতকাল শনিবার জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণভবনে জুলাই-আগস্ট জুড়ে সারা দেশে পতিত আওয়ামী সরকারের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হবে। আয়নাঘরের রেপ্লিকা হবে। এখানে একটি গবেষণাকেন্দ্রও থাকবে। পরবর্তী সময়ে যারাই সরকারে আসুক না কেন, এ জাদুঘর সংরক্ষিত থাকবে।’
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের মানবিক মর্যাদা রক্ষার্থে গণভবনে প্রবেশ করে ফ্যাসিবাদী সরকারপ্রধানের দম্ভ ভেঙে দিয়েছে। গত ১৬ বছরে এই গণভবন বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-যাতনার জায়গায় পরিণত হয়েছিল। আবার এই গণভবনে জনগণের বিজয়ের স্মৃতিচিহ্নও রয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়ের চিহ্নও এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এই জাদুঘর শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য নয়, সারা বিশে^র মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। চলতি সপ্তাহেই কমিটি কাজ শুরু করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কমিটির আহ্বায়ক কিউরেটর, শিক্ষক, লেখক ও ফিল্ম মেকার ড. এবাদুর রহমান। যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম। অন্যান্য সদস্য হলেন লেখক ও মানবাধিকারকর্মী মুসতাইন বিল্লাহ, জগন্নাথ বিত্নবিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক জাহিদ সবুজ, জাতীয় বিত্নবিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক ড. নুরুল মোমেন ভূঁইয়া, আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা এবং প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক তানজিম ওয়াহাব, লেখক ও গবেষক সহুল আহমেদ মুন্না, স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক, আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, স্থাপত্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের সভাপতি বা উপযুক্ত প্রতিনিধি, নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের লিড আর্কিটেক্ট বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার, ডিজাইন ওয়ার্কস গ্রুপের আর্কিটেক্ট তানজিম হাসান সেলিম। এ ছাড়া কমিটিতে এক বা দুজন ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত হবেন।
