চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগী হয়রানির শিকার হওয়ার পেছনে সরকারেরও দায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
আজ সোমবার (৪ নভেম্বর) সকালে চমেক হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘চমেক হাসপাতাল ২২’শ বেডের। কিন্তু রোগী ভর্তি থাকে সাড়ে তিন হাজারের বেশি। ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী ধারণ করায় একটু তো ব্যতিক্রম হবেই। তবে আমি বলব, এখানে সরকারেরও দায়বদ্ধতা আছে’
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির আউটসোর্সিং কর্মীদের গত তিন-চার মাস ধরে বেতন নেই। তাদের বেতনভাতার বিষয়টি পাশ হলেই সরকারিভাবে তাদের জন্য পুনরায় বেতন-ভাতা বরাদ্দ হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষতো আর বিনা পয়সায় তাদের মাসের পর মাস রাখতে পারবে না, তখন তারা যেসব রোগীর সেবা করছেন তাদের কাছ থেকে কিছু পয়সা নেন। এটা তার ব্যক্তিগত বেতন পোষানোর জন্য নিয়ে থাকছে। এটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথা। তবে আমরা বলছি, তাদের বেতনভাতা বন্ধ হওয়া উচিত হয়নি। প্রক্রিয়াটি অনেক আগ থেকেই এমন হওয়া উচিত ছিল, যা বরাদ্দ দেওয়ার কথা সেটি যেন সরকার সারা বছর দেয়।’
দেশের ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে সদর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমবে জানিয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিদিন হাসপাতালে ১২০০ থেকে ১৫০০ রোগী আসছে। এসব রোগীর মধ্যে কিছু রোগীকে ওয়ার্ডের ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে, কিছু বাইরে পাঠানো হচ্ছে। গ্রাম-ইউনিয়ন-উপজেলা পর্যায়ে রোগীদের বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুধু ওই রোগীটাই বড় হাসপাতালে আসবে যার সত্যি সত্যি এখানে চিকিৎসা দরকার। যেটাকে বলা হয় রেফারাল সিস্টেম।’
এর আগে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সোহেল তাজকে প্রধান উপদেষ্টার ফোন