বাংলাদেশের শিল্প খাতে শ্রম অধিকার, শ্রম আইন ও সরবরাহ চেইনে বিনিয়োগ এ তিন খাতে নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন কূটনীতিকরা। এছাড়া অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আসন্ন চ্যালেঞ্জগুলোর কথা চিন্তা করে প্রণোদনাগুলোর পুনর্গঠন করতে হবে। ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি স্থানান্তর, শ্রম এবং অন্যান্য মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলার বিষয়ে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’। বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের আয়োজনে দুদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ৭টি দেশের ৪৫টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার এ প্রদর্শনী শেষ হয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বাধুনিক ডেনিম কাপড়, উদ্ভাবনী পণ্য, সরঞ্জাম, রাসায়নিক দ্রব্য, যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
দ্বিতীয় দিনে ‘জিএসপি প্লাস এবং এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রস্তুতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্টের কম্পোনেন্ট ম্যানেজার ড. মোস্তফা আবিদ খান বলেন, ‘আমরা পোশাক খাতের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। ইইউ বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রদানে খুবই আগ্রহী। বাংলাদেশকে ইইউ কর্তৃক নির্ধারিত ডিউ ডিলিজেন্স মানদন্ড মেনে চলতে হবে।’
অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ‘অনেকে বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশ সব প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবে। কিন্তু এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমি মনে করি, অন্তর্ভুক্তি এবং স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রম অধিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
বাংলাদেশে ডেনমার্কের দূতাবাসের সেক্টর কাউন্সেলর ওলে আর. জাস্টেসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে আমি তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেব। সেগুলো হলো শ্রম অধিকার, শ্রম আইন ও পরিদর্শন এবং সরবরাহ চেইনে বিনিয়োগ। কারখানার কর্মস্থলের পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য শ্রম পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিউ ডিলিজেন্সকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে না দেখে, আমি এটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেব।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সফলতার গল্প অব্যাহত থাকবে; আমি এ ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। বাংলাদেশ এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত। আমার মনে হয়, আমাদের আসন্ন চ্যালেঞ্জগুলোর কথা চিন্তা করে প্রণোদনাগুলোর পুনর্গঠন করতে হবে। আমার প্রস্তাব হবে যে, ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা আমাদের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি স্থানান্তর, শ্রম এবং অন্যান্য মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলার বিষয়ে সহায়তা করবে। আমি মনে করি, ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা উদ্যোক্তাদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা একটি ভালো ব্যবসায়িক দিক। শ্রমিকদের অধিকার দিতে হবে। এটি মানবাধিকার।’
