জনপ্রশাসনের ৯ নির্দেশনা

বিতর্ক এড়াতে সতর্ক হয়ে অনুষ্ঠানে যেতে নির্দেশ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৪ এএম

সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সরকারি দায়িত্ব পালনে বিতর্কিত কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে সরকারি কর্মচারীদের ৯টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে খবর নিতে হবে। বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়া যাবে না। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, সাজসজ্জা, ব্যানার, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন, ট্রফি, স্যুভেনির ও লোগো ইত্যাদিতে বিতর্কিত কারও ছবি আছে কি না, খেয়াল রাখতে হবে। বাতিলকৃত দিবস বা ব্যক্তি সম্পর্কে থাকা বই, স্যুভেনির, ক্রেস্ট, স্মারক অফিসে থাকলে সেগুলো সরানোর জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে সচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সঠিক তথ্য নিতে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো. মোখলস উর রহমান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা সচিবদের কাছে পৌঁছেছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় বিব্রত হতে হয়েছে জনপ্রশাসনকে। এরপর এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলো।

গত ২৪ অক্টোবর বাগেরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে জরায়ু মুখে ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকা প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল আহসানের উপস্থিতিতে জয় বাংলা স্লোগান দেন সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দিন আহম্মেদ। সেই বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সিভিল সার্জনের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। ওইদিন রাতেই বাগেরহাট জেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতৃত্বে সিভিল সার্জনের অপসারণের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়।

গত ২৫ অক্টোবর যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে নাচের সঙ্গে বাজানো গানে পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ছিল। ওইদিন বিষয়টিতে বিব্রত হয়ে ডিসির নির্দেশে অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আটক করা হয়। একপর্যায়ে আটককৃতরা আট ঘণ্টা পর মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পান।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, সব ধরনের অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যের বাইরে কোনো স্লোগান বা জয়ধ্বনি থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া নিজ নিজ আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মচারীরা যাতে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে আমন্ত্রণ এসেছে, অনুষ্ঠানের পেছনে কারা আছে, এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নিতে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সরকার কর্তৃক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যেসব দিবস বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব দিবস যাতে পালিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিতর্ক এড়াতে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় থাকে, সে অনুষ্ঠান পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য প্রদানের পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত