এলপিজির দাম কমল ১ টাকা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:২৪ এএম

ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির তরলিকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম চারদফা বাড়ার পর কমল ১ টাকা। চলতি মাসের জন্য দাম ১ হাজার ৪৫৬ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের অন্যান্য পরিমাণের এলপি গ্যাসের দামও কমেছে। আর গাড়িতে ব্যবহৃত প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৬৬.৮৪ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৬৬.৮১ টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নতুন দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৬৯০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও সারা দেশে চাহিদার তুলনায় এটি মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশের মতো সরবরাহ করা যায়। আবার যাও সরবরাহ করা হয় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

ঘোষিত দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১২১ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মাসে ছিল ১২১ টাকা ৩২ পয়সা। সে অনুযায়ী সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি ওজনের বোতলের এলপিজির দাম কমেছে। বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত রেটিকুলেডেট পদ্ধতিতে তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির দামও কমেছে আনুপাতিক হারে।

জুলাই মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩ টাকা বেড়ে হয়েছিল ১ হাজার ৩৬৬ টাকা। আগস্টে ১১ টাকা বেড়ে ১৩৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেপ্টেম্বরে আরও ৪৪ টাকা বাড়িয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪২১ টাকা। আর সর্বশেষ গত মাসে আরেক দফা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অটোগ্যাস এবং অন্যান্য পরিমাণে এলপিজির দামও বাড়ান হয়।

গত জুন ও মে মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ৪৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৬৩ টাকা ও ১ হাজার ৩৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। টানা ৮ মাস মূল্যবৃদ্ধির পর গত ৩ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে কমানো হয়েছিল এলপিজির দাম। মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪০ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত মার্চ মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৮২ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা ও জানুয়ারিতে ২৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গত বছরের জুলাই মাসে ১২ কেজি ওজনের এলপিজির দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। ৮ মাসের ব্যবধানে গত মার্চ মাসে সমপরিমাণ এলপিজির দাম বেড়ে ১৪৮২ টাকা হয়েছিল। পরে ওই দাম কোন মাসে বেড়েছে আবার কোন মাসে কমেছে।

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের একটি মিশ্রিত অনুপাত। দুটিই আমদানি করা হয়। সৌদি আরামকোর ঘোষিত মূল্য (সৌদি সিপি) ধরে প্রতি মাসে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে বিইআরসি। দেশে ২০টি কোম্পানি এলপিজির কাঁচামাল আমদানি করে। দাম নির্ধারণে ডলারের মূল্যও একটি ভূমিকা রাখে।

বাজারে কমিশনের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তারা অভিযোগ করছেন। বিইআরসির বক্তব্য হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। এলপিজির বাজারের অন্তত ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত