দোরগোড়ায় ভবন পৌঁছেনি সেবা!

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১০ এএম

ভূমি সেবা সহজ ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে খুলনা জেলায় নির্মিত হয় ১৪টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন। বিপুল টাকা ব্যয়ে ভবনগুলো নির্মিত হলেও সেখানে চালু হচ্ছে না দাপ্তরিক কার্যক্রম। ফলে কাক্সিক্ষত সেবাবঞ্চিত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মানুষজন। তাছাড়া বছরের পর বছর রোদ-বৃষ্টিতেও ধুঁকছে ভবনগুলো।

জেলা প্রশাসন ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, জমির নামজারি বা মিউটেশনের প্রস্তাব প্রেরণ, খাজনা আদায়, সরকারি ভূমির তত্ত্বাবধায়ন, ভূমিসংক্রান্ত তদন্ত, তহসিল অফিসের রেকর্ড, রেজিস্ট্রারের ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানে দেশে ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ করে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা জেলার আট উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মিত হয়। সেগুলো হলো কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ডুমুরিয়া উপজেলায় গুটুদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, দাকোপ উপজেলায় দাকোপ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও লাউডোব ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পাইকগাছা উপজেলায় লতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, রূপসা উপজেলায় শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও আইচগাতি ইউনিয়ন ভূমি অফিস, দীঘলিয়া উপজেলায় গাজীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও দীঘলিয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং তেরখাদা উপজেলায় ছাগলাহদহ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও সাচিয়াদহ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো নির্মাণ করে খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। সংস্থাটি উল্লিখিত সময়ের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে হস্তান্তর করে। তবে হস্তান্তরের পর পার হচ্ছে বছর। অথচ ১৪টি ভবনের একটিতেও এখনো অফিসের দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরু হয়নি। ফলে সেবা পাচ্ছে না মানুষ।

গুটুদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, লোকালয় কিছুটা দূরে বিলের মধ্যে ভবনটি নির্মিত হয়েছে। সেখানে যাতায়াতে রাস্তা নেই। চলতি বর্ষায় আশপাশ পানিতে ডুবে রয়েছে। রোদ, ঝড় ও বৃষ্টিতে ভবনগুলোর স্থায়িত্ব কমছে। এ ছাড়া সেবা কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলি মোড়ল দেশ রূপান্তরকে জানান, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি দীর্ঘদিনেও চালু হচ্ছে না। ফলে ইউনিয়ন অফিসের সেবা পেতে বাসিন্দাদের ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কয়রা সদরে আসতে হয়। এতে তাদের দুর্ভোগওপোহাতে হয়, সময় ও অর্থও খরচ হয় বেশি।

বটিয়াঘাটা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ শাওন বলেন, বটিয়াঘাটায় অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে অথচ জনবল দেওয়া হয়নি। সে কারণে দুটি অফিস চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মন্ত্রণালয়ে জনবল চেয়ে আগেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন ফের চিঠি দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে রূপসা সহকারী কমিশনার অপ্রতিম কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, এখনো জনবল অনুমোদন হয়নি, উপকরণও আসেনি। শুধুই ভবন বুঝে পাওয়া গেছে। এই সেটআপগুলো এলে দাপ্তরিক শুরু করা সম্ভব হবে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত জনবল পদায়ন ও উপকরণ প্রদান করে অফিসগুলো চালু এবং গতিশীল করার চেষ্টা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত