আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজা উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের এই সমন্বয়কের রিমান্ড শুনানিকালে তার আইনজীবী স্বপন রায় চৌধুরীকে মারধর করে এজলাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুনানিকালে এই আইনজীবী বক্তব্য দিতে শুরু করলে একদল আইনজীবী তাকে মারধর করে আদালত থেকে বের করে দেন। রিমান্ড শুনানিকালে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘তিনি (আমু) শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানিয়েছেন। তাকে বিপথে নিয়ে গেছেন। তিনি (আমু) ১৪ দল নিয়ে মিটিং করে যেকোনো মূল্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র- জনতার আন্দোলন দমানোর কথা বলেন। এদের কারণেই এই গণহত্যা হয়েছে।’ এ সময় আমুর আইনজীবী স্বপন রায় চৌধুরী তার (ওমর ফারুক ফারুকী) বক্তব্যকে রাজনৈতিক বলে মন্তব্য করেন। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। আমুর আইনজীবীর দিকে তেড়ে যান। তাকে মারধর ও লাথি দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে আইনজীবী পড়ে যান। এ সময় আমু আদালতে বলেন, তার আইনজীবীর শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতের যে পরিবেশ তিনি দেখলেন, তাতে তিনি কোনো ধরনের কথা বলতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও আইনজীবী। আমরা রাজনীতি করি। আইনজীবীরা পরস্পর ভাই ভাই। যখন পরিবেশ হবে, তখন নিশ্চয়ই কথা বলব।’
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আমুকে ছয় দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেয়। এর আগে বেলা সাড়ের ১১টার দিকে আমুকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে তোলা হয়। আদালতের আদেশ শেষে আমুর আইনজীবী স্বপন রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনানিতে কিছু কথা বলা শুরু করতেই আমাকে কয়েকজন আইনজীবী মারধর করেন। আদালত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। গত বুধবার রাজধানীর ধানম-ি এলাকা থেকে আমির হোসেন আমুকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকেলে নিউ মার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় পুলিশের গুলিতে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ মারা যান। এ ঘটনায় ভিকটিমের শ্যালক আবদুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে এ হত্যা মামলাটি করেন।
