ভালো থাকতে শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মনকেও সুস্থ রাখতে হবে। আর এই সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে মেডিটেশন। মেডিটেশনের মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে শেখে। মেডিটেশনের উপকারিতা সম্পর্কে জানাচ্ছেন এনাম-উজ-জামান
মেডিটেশন আইকিউ বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত মেডিটেশন করার ফলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি ও নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
অনেকেই পড়াশোনার চাপে ক্লান্তি অনুভব করে। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার এই ধকল দূর করার ভালো উপায় হলো মেডিটেশন। মেডিটেশনের ফলে ভয়, উদ্বেগ ও ধকল হ্রাস পায়। এ ছাড়াও মেডিটেশন মস্তিষ্কের আলফা ওয়েভ নিঃসরণ বৃদ্ধি করে, যা দুশ্চিন্তা, দুঃখ ও রাগের মতো অনুভূতিগুলো কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
পড়ার সময় মনোযোগ না থাকলে সারাক্ষণ বসে পড়লেও কোনো লাভ নেই। মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে মেডিটেশন। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে দুবার মেডিটেশন করলে মনোযোগ দ্বিগুণ পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
মেডিটেশন চিন্তাশক্তিকে একটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত করতে শেখায়। যার ফলে যেকোনো একটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ফলে পড়ার সময় অন্য সব চিন্তা মস্তিষ্ক থেকে দূরে থাকে।
মাত্র ৩ মাস নিয়মিত মেডিটেশন উচ্চ-রক্তচাপের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। নিয়মিত মেডিটেশন ক্লান্তি ও অবসন্নতা দূর করে, ফলে পুরো উদ্যমে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ করা সম্ভব হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মেডিটেশন করেন তাদের দেহে অ্যান্টিবডির পরিমাণ অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি থাকে।
অনেক অভ্যাস আছে যেগুলো ক্ষতিকর জেনেও সহজে ত্যাগ করা সম্ভব হয় না। এর কারণ যথেষ্ট ইচ্ছাশক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব। মেডিটেশনের ফলে আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায় এবং বাজে অভ্যাসগুলো সহজেই ত্যাগ করা সম্ভব হয়।
ভালো পড়াশোনার পূর্বশর্ত হলো শারীরিক সুস্থতা। যতই ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হোক না কেন, শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকলে কখনোই পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব হয় না। মেডিটেশন মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতেও সাহায্য করে।
বিষণœতায় আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে মেডিটেশন অনেকটা Anti-Depressionওষুধের মতো কাজ করে।
