মেধাস্বত্বের বিনিয়োগ নেই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:০৯ এএম

দেশের তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ নেই। ফলে এ খাতের উদ্যোক্তারাও আছেন ঝুঁকিতে। বিশ^বিদ্যালয়গুলোর তথ্যপ্রযুক্তির পড়াশোনার সঙ্গে এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ নেই। তথ্যপ্রযুক্তির বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, তবে বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৃহত্তম জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও, আমাদের আয় ২.৫ বিলিয়ন ডলার, যা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

গতকাল শনিবার ডিসিসিআইতে ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

দেশে স্টারলিংকের ডিভাইস আনতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) সম্প্রতি একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

সম্প্রতি স্টারলিংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৗধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি বলেন, স্টারলিংক গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে, কিন্তু বিটিআরসির আইনের কারণে তারা আসতে পারছে না।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন সম্প্রতি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা অপারেটরদের জন্য নির্দেশিকা তৈরি করেছে, যা সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে অপারেশনের জন্য লাইসেনস পেতে সাহায্য করবে।

হারুন বলেন, ‘আমাদের একটি কেস স্টাডি বিবেচনা করা উচিত যেখানে স্টারলিংক রাউটারের মতো ডিভাইসগুলো সম্প্রদায়ের ব্যবহারের জন্য স্থাপন করা হয়।’

‘বাংলাদেশে নন-জিওস্টেশনারি অরবিট স্যাটেলাইট পরিষেবা অপারেটরদের জন্য নিয়ন্ত্রক এবং লাইসেনসিং নির্দেশিকা’ শীর্ষক নির্দেশিকাগুলো স্টারলিঙ্ক ও এ ধরনের সংস্থাগুলোর জন্য দরজা খুলতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

সেমিনারের সূচনা বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, এ খাতে আমাদের কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চতর মূল্য সংযোজন পরিষেবা প্রদানের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে এবং সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালুচেইনে উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারিত করতে হবে। এ ছাড়া পণ্যের ডিজাইন, অ্যাসেম্বলি প্যাকেজিং এবং টেস্টিং (এপিটি) প্রভৃতি খাতে আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে উদীয়মান আইওটি বাজারের জন্য ইন্টিগ্রেটেড ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারিং (আইডিএম)-এর সুযোগগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।

বেসিসের সাবেক সভাপতি আলমাস কবির বলেন, এ খাতের কর্মীরা পোশাক খাতের মতো কম মূল্যের কাজ করেন। আমাদের সুযোগ আছে আমরা বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে পারি।

তিনি বলেন, আমাদের টেলিযোগাযোগ নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। গবেষণা ও উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আমাদের ইন্টেলেকচুয়ার প্রপার্টি নাই। মেধাস্বত্বে বিনিয়োগ না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটির নির্বাহী পরিচালক জাকির হাসান বলেন, আমাদের গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আবার বিশ^বিদ্যালয়ের আইসিটির পড়াশোনার সঙ্গে এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ কম। এটিও বাড়াতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবছর আমাদের বিদ্যালয়গুলো থেকে অসংখ্য তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শিক্ষাজীবন শেষ করলেও বাস্তবভিত্তিক দক্ষতার অভাবে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যাচেছ না, এমতাবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরিতে দেশের শিক্ষাক্রমের সংস্কার একান্ত অপরিহার্য। এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে তিনি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে একটি স্টিয়ারিং কমিটি প্রণয়নের প্রস্তাব করেন।     

বাংলাদেশে সফ্টওয়্যার ও পরিষেবা রপ্তানি ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং ২০২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ খাতে দক্ষতার ব্যবধান এবং পরিকাঠামোর অভাবের কথা উল্লেখ করে ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, এই ব্যবধান মেটাতে শিক্ষা, লজিস্টিক পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু উচ্চমানের মূল্য সংযোজন তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার জন্য তিনি গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানি প্রণোদনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যা সবাইকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বিদ্যমান নীতিমালাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করা গেলে নাগরিক সেবার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সহজতর হবে এবং বর্তমান সরকার এ বিষয়টিকে অধিক হারে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ, রপ্তানি পরিসংখ্যান সহ অন্যান্য তথ্যে বেশ অসংঙ্গতি ছিল, যা নিরসনে বর্তমান সরকার বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া কখনই যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত