গেল ২৮ অক্টোবর দেওয়া হয় ২০২৪ ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। প্যারিসে সব আয়োজনই ছিল কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর কিছু সময় আগে জানা যায়, ভিনিসিয়ুস পুরস্কার পাচ্ছেন না জেনে, রিয়াল মাদ্রিদ ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান বয়কট করে। ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে রদ্রির নামই ঘোষিত হয়। সেই থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল রদ্রি কত পয়েন্টে জিতলেন বা ভিনি কত ব্যবধানে হেরেছেন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুরস্কারের আয়োজক ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ২০২৪ ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের ভোট গণনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। রদ্রির কাছে মাত্র ৪১ পয়েন্টে হেরেছেন ভিনিসিয়ুস।
রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস পেয়েছেন ১১২৯ পয়েন্ট। স্পেন ও ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রি পেয়েছেন ১১৭০ পয়েন্ট। গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতেন ভিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের মৌসুম সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন। তাই অনেকের মতে ভিনিই ছিলেন ফেবারিট। রদ্রি সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি স্পেনের হয়ে জিতেছেন ইউরোও। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের সেই টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড়ও হন রদ্রি।
ছেলেদের ব্যক্তিগত সেরার পুরস্কারে বিজয়ী বেছে নিতে ফিফা র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০০ দেশের সাংবাদিকদের মাঝে ৯৯ জন (সিরিয়া ভোট দেয়নি) মনোনীতদের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে পছন্দের শীর্ষ ১০ খেলোয়াড় বেছে নিয়েছেন। তাদের এই শীর্ষ ১০ জনের তালিকায় সবার ওপরে থাকা খেলোয়াড় পেয়েছেন ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় ১২ পয়েন্ট ও ১০ পয়েন্ট পেয়েছেন তৃতীয় খেলোয়াড়। ক্রম অনুযায়ী চতুর্থ থেকে দশম স্থানের খেলোয়াড়রা পেয়েছেন যথাক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট। অর্থাৎ মোট পয়েন্ট সংখ্যা ৬,৬৩৩।
সব সাংবাদিকের শীর্ষ ১০ জনের তালিকায় ওপরে থাকলে সর্বোচ্চ ১৪৮৫ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব। ৪৯ জন সাংবাদিকের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন রদ্রি। ভিনি ৩৫ জন সাংবাদিকের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। বাহরাইন, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পানামার সাংবাদিকদের শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় ঠাঁই পাননি রদ্রি। ভিনিকে শীর্ষ ১০ থেকে বাদ দিয়েছেন এল সালভাদর, ফিনল্যান্ড ও নামিবিয়ার সাংবাদিক। আর্জেন্টিনার সাংবাদিকের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন না ভিনি বা রদ্রির কেউই। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক এক নম্বরে রাখেন টনি ক্রুসকে, দুইয়ে রদ্রি এবং তিনে ভিনি। রিয়াল ও ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম ৫ জনের তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছেন। রিয়ালেরই দানি কারভাহাল ৪ জন ও ক্লাবটির সাবেক মিডফিল্ডার টনি ক্রুস ২ জনের তালিকায় শীর্ষে।
কেপা ট্রফির জন্য পরিষ্কার ফেবারিট ছিলেন লামিন ইয়ামাল। কেপা ট্রফির বিচারক হন আগে ব্যালন ডি’অর জয়ী খেলোয়াড়রা। ইয়ামাল ১১৩ পয়েন্টে পেয়ে প্রথম হন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়ালের আর্দা গুলের পান ২৬ পয়েন্ট। ২০ পয়েন্ট কবি মিনোর। ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে সাবিনহো। পাঁচ নম্বর স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের পয়েন্টের ব্যবধান অনেক। পাও কুবার্সি পাঁচে। তিনি পান ৮ পয়েন্ট।
ইয়াসিন ট্রফি অর্থাৎ সেরা গোলকিপারের পুরস্কার জেতা এমি মার্তিনেজ পেয়েছেন মোট ২৭৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেনের উনাই সিমোনের পয়েন্ট ২১৩। রিয়ালের ইউক্রেনিয়ান গোলকিপার আন্দ্রে লুনিন তিনে ১১২ পয়েন্টে। গোলকিপারের তালিকায় ছিলেন মোট ১০ জন।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ১১৮ পয়েন্ট পেয়ে প্রথম হন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লেভারকুসেনের কোচ জাবি আলোনসো পান ৮৯ পয়েন্ট। স্পেন জাতীয় দলের কোচ দে লা ফুয়েন্তে তৃতীয় হন, তিনি পান ৬৩ পয়েন্ট।
ব্যালন ডি’অর নির্ধারিত হয় র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০০-তে থাকা দেশগুলোর সাংবাদিকের ভোটে। সাংবাদিকদের ফুটবল-জ্ঞান নিয়ে সন্দিহান ব্রাজিল কিংবদন্তি রিভালদো। ১৯৯৯ সালে ব্যালন ডি’অর আর ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতা এই ফরোয়ার্ড প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যালন ডি’অরে ভোট দেওয়া সব সাংবাদিক ফুটবল বোঝেন কি না।
রিভালদো বলেন, ‘যেসব সাংবাদিক ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাই কি ফুটবল বোঝেন? সবাই কি সত্যিই যোগ্যতাসম্পন্ন?’ অবশ্য রদ্রির পুরস্কারপ্রাপ্তিকেও খাটো করে দেখছেন না, ‘রদ্রিকে আমি ছোট করতে পারি না। সে আমার পছন্দের খেলোয়াড়। দ্বিতীয় পছন্দ ছিল সে। হ্যাঁ, ভিনিসিয়ুসের পুরস্কারটি বেশি প্রাপ্য হলেও এই পুরস্কারের মানকে আমি ছোট করতে পারি না। কারণ, আমি সত্যিই রদ্রিকে পছন্দ করি। তার স্টাইল ও খেলার ধরন পছন্দের।’
