বাণিজ্য উপদেষ্টার নামে মামলা, ভূঁইয়া নিয়ে দ্বিধায় পুলিশ

‘নিশ্চিত হলে আইনি পদক্ষেপ’

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৬ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এমন আলোচনায় সরগরম দেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সোহান শাহ নামে (৩০) এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রামপুরা থানায় রেকর্ড হওয়া মামলার আসামি তালিকায় ৪৯ নম্বরে নাম রয়েছে শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তির। নামটি আংশিকভাবে মিলে যায় গত রবিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়া ব্যবসায়ী সেখ বশির উদ্দিনের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, সেখ বশিরের বাবার নামের সঙ্গে আসামি তালিকায় থাকা শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়ার বাবার নামেরও মিল রয়েছে। মিল রয়েছে বাড়ির ঠিকানারও। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, আসামির তালিকায় নাম থাকা এই শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়াই নতুন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন কি না। তবে পুরো নামে ভূঁইয়া ধাকায় দ্বিধায় পড়েছে থানা-পুলিশ। মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিই বাণিজ্য উপদেষ্টা কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে রামপুরা থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য নির্দেশ দেন। সেই মামলায় এজাহারভুক্ত ৪৯ নম্বর আসামি শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়ার নাম রয়েছে। এই শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়া বর্তমান বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নামে কিছুটা অসংগতি থাকলেও বাবার নাম ও বাড়ির ঠিকানা একই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে উপদেষ্টা হওয়ার পর গতকাল সোমবার প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভালো জানি না। আমাদের লিগ্যাল টিম বিষয়টি দেখছে। ওখানে (মামলার এজাহার) আমার নামের, আবার বাবার নামের কিছু সংগতি আছে, কিছু অসংগতি আছে। এটা আসলেই আমি কি না, আমি নিশ্চিত নই। নিশ্চিত হলে লিগ্যালি ফেস (আইনিভাবে মোকাবিলা) করা হবে।’

নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে বিভিন্নজনের মন্তব্যের বিষয়ে সেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘যারা আন্দোলন করেছেন, তাদের আবেগের সঙ্গে আমার দ্বিমত নেই। তবে আমার ধারণা, ওনারা মিস ইনফরমড (ভুল তথ্য পাওয়া)। ওনাদের তথ্যের ভিত্তি সঠিক নয়।’

গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিহত সোহান শাহর মা সুফিয়া বেগম ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে সেই মামলা রামপুরা থানায় রেকর্ড করা হয়। এতে মোট ৫৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে। নাম উল্লেখ করা ৫৭ জন আসামির মধ্যে ৪৯ নম্বরে রয়েছে শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়া নামে একজনের। যার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা। বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে শেখ আকিজ উদ্দিন ভূঁইয়া। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। মামলাটির অন্যতম আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক এসবিপ্রধান মনিরুল ইসলাম ও মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর।

মামলার বিষয়ে বাদী সুফিয়া বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ মামলায় ৪৮ নম্বর আসামি শেখ আফিল উদ্দিন ভূঁইয়া। পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি যশোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে শেখ আকিজ উদ্দিন ভূঁইয়া। প্রয়াত সেখ আকিজ উদ্দিন আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি আকিজ গ্রুপ। সেখ আকিজের ছেলেদের মধ্যে সেখ আফিল উদ্দিন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। সেখ আকিজের সন্তানরা আলাদাভাবে ব্যবসা করেন। সেখ বশির উদ্দিন আকিজ-বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে মামলার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত