মনছুর আহমদ (৪৪)। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। পেশা ছিনতাই-ডাকাতি। কেউ বাধা দিলেই ছোড়েন গুলি। খুন করতেও দ্বিধা করেন না। পুলিশ বলছে, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে ভাড়ায় খেটেছেন মনছুর। ছাত্র-জনতার ওপর গুলিও ছোড়েন তিনি। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতির অপরাধে মামলা আছে ১৬টি।
শুধু কি মনছুর। না, তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমও কম যান না। তিনিও স্বামীর ছিনতাই, ডাকাতির অপরাধে সায় দেন। তিনিও নানা অপরাধে যুক্ত। ২০১৮ সালে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কোহিনুর। পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন। ওই মামলাটি এখনও বিচারাধীন। তার স্বামী মনছুরের ভয়ে পাহাড়তলী বাজারের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সবশেষ গত ২৩ আগস্ট রাতে নগরের পাহাড়তলী বাজারের একটি ডিমের আড়ত থেকে ৮০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যান মনছুর। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ হন্যে হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সাফল্য পায় পুলিশ। রবিবার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বরগুনা জেলা থেকে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, গ্রেপ্তারের পর সব অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন মনছুর। ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল টাকা লুটে বাধা দেওয়ায় পাহাড়তলী বাজারের ডিমের আড়তদার রানা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মাসুদ রানাকে গুলি করে হত্যা করে মনছুর। এ ঘটনার পর অস্ত্রগুলিসহ মনছুরকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আবার জড়িয়ে পড়েন অপরাধে। বর্তমানে মাসুদ হত্যা মামলাটি বিচারাধীন। ছিনতাই-ডাকাতিতে বাধা দিলেও মানুষ খুন করতেও দ্বিধা করে না মনছুর।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট দিবাগত রাত তিনটার দিকে পাহাড়তলী বাজারের একটি ডিমের আড়তে অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়েন মনছুর। সঙ্গে ছিল চার সন্ত্রাসী। পরে ওই দোকানের ক্যাশ থেকে ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যান। যাওয়ার সময় ফাঁকা গুলি ছোড়েন মনছুর। ডিমের আড়তের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ধরা পড়ে টাকা লুটের দৃশ্য।
পুলিশ জানায়, নগরের পাহাড়তলীর দুলালাবাদ এলাকার মৃত জমির আহাম্মদের ছেলে মনছুর। বিভিন্ন সময় চুরি-ছিনতাই দিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়েন মনছুর। গড়ে তোলেন একটি বাহিনী। বর্তমানে তার বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৮/২০জন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়তলীর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সাবের আহমদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মনছুর। পুলিশ বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নগরের খুলশি ও ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালাতে ভাড়ায় খেটেছিল এই মনছুর।
গত ৪ নভেম্বর খুলশীর প্রীতিলতা রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনির একটি অটোরিকশা গ্যারেজে মো. ইলিয়াস নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে মনছুর। এর আগে গত ২১ অক্টোবর নগরের ২ নম্বর গেট বেবী সুপার মার্কেট সংলগ্ন আনোয়ারা গার্মেন্টেসের সামনে সংঘটিত স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনার অভিযুক্ত আসামিও মনছুর।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী তারেক আজিজ জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের সব ঘটনা স্বীকার করেছে মনছুর। তার তথ্যের ভিত্তিতে খুলশীর রেলওয়ের ক্যান্টিন গেট এলাকায় কালভার্টের পশ্চিম পাশে নালার মধ্যে মাটির নিচ থেকে কালো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় খুলশী থানায় মনছুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
রাজনীতিবিদরা হাত মেলাচ্ছে, আর বিপ্লবীদের ফাঁসির দড়ি এগিয়ে আসছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
শেষ হচ্ছে টেইলরের ইরাস ট্যুর
‘শেখ মুজিবের ছবি সরানো উচিত হয়নি’ বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ রিজভীর