বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মঙ্গলবার বিকেলে ভেসে বেড়াল একটা কথা। এই মালদ্বীপ ঠিক আগের মতো ক্ষুরধার নয়। দীর্ঘ সময় মাঠ-বিচ্ছিন্ন দ্বীপদেশটির খেলোয়াড়রা। গত বছর অক্টোবরে এই ভেন্যুতেই স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে ২-১ গোলে হেরে তারা পায়নি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বের টিকিট। সেটাই ছিল তাদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শুধু আন্তর্জাতিক নির্বাসন নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞায় স্থবির হয়ে পড়েছিল তাদের ঘরোয়া ফুটবলও। লিগসহ হয়নি কোনো ঘরোয়া আসর। দেশটির খেলোয়াড়দের একটা বড় অংশের সময় কেটেছে দ্বীপ থেকে দ্বীপে ঘুরে ছোটখাটো টুর্নামেন্ট খেলে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার ঘাটতি নিয়ে মালদ্বীপ ঢাকায় এসেছে এক বছরের নির্বাসন কাটাতে। সেটাই স্বপ্ন দেখাচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে।
বসুন্ধরা গ্রুপ ফিফা প্রীতি সিরিজটা ২-০ তে জিতে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের লক্ষ্য র্যাংকিংয়ে উন্নতি। যা তাদের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ড্রয়ে দেবে বাড়তি সুবিধা। আজ সন্ধ্যা ৬টায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
বাংলাদেশের অবস্থাও খুব ভালো নয়। রাজনৈতিক বাঁকবদলে ঘরোয়া ফুটবলের শুরুটা কেবল পেছাচ্ছে। তবে হোম গ্রাউন্ড কিংস অ্যারেনায় ম্যাচ বলেই এগিয়ে থাকবেন তপু-রাকিব-মোরসালিনরা। আবার ভুটানে অনুষ্ঠিত এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলে এসেছে বসুন্ধরা কিংস। যে দলের অনেকেই আছেন জাতীয় দলে। চ্যালেঞ্জ লিগের পারফরম্যান্স ভালো না হলেও, তপুদের বিশ্বাস জাতীয় দলের জার্সিতে দল নামবে ভালো কিছুর আশায়। গত সেপ্টেম্বরে ভুটান দুঃস্মৃতিও (সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হার) ভোলার সুযোগ এই সিরিজ।
একটা সময় মালদ্বীপকে হেসেখেলে হারাত বাংলাদেশ। জয়ের ব্যবধানগুলোও হতো বড় বড়। সেই স্মৃতিতে ধুলো জমে মাঝের কয়েক বছরে। যাদের হারিয়ে একমাত্র সাফ শিরোপা ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশ, সেই মালদ্বীপই অজেয় রূপ ধারণ করে। মালদ্বীপের কাছে বারবার পেতে হয় হারের লজ্জা। তবে শেষ তিন বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে কাবরেরার অধীনে। এই স্প্যানিশের অভিষেকটা ভালো হয়নি মালদ্বীপের কাছেই হেরে।
তবে শেষ তিন ম্যাচে তাদের কাছে হারেনি বাংলাদেশ। গত বছর সাফের সেমিফাইনালে নিশ্চিত করতে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৩-১ গোলে গ্রুপ ম্যাচ জয়ের ছিল বড় ভূমিকা। গত অক্টোবরে দুই লেগের বিশ্বকাপ বাছাই প্রিলিমিনারি রাউন্ডেও ধরাশায়ী মালদ্বীপ। মালেতে অনেকদিন পর স্বাগতিকদের জয় বঞ্চিত করে বাংলাদেশ (১-১)। এরপর কিংস অ্যারেনায় ২-১-এ জিতে বাংলাদেশ যায় বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বে।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা বাংলাদেশের জন্য বেশ পয়া। এখানে খেলা ছয় ম্যাচের চারটিতে প্রতিপক্ষকে জিততে দেয়নি বাংলাদেশ। মালদ্বীপের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ের বিপরীতে দুই প্রবল প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিস্তিন পেয়েছে ঘাম ঝরানো জয়। বাকি তিন ম্যাচ ড্র। র্যাংকিংয়ে মালদ্বীপ ২০ ধাপ এগিয়ে বলেই এই প্রীতি সিরিজে জোড়া জয়ের প্রত্যাশা। তাতে বাংলাদেশ ১৮৩ থেকে উঠে আসবে ওপরে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে এড়ানো যাবে শক্ত প্রতিপক্ষ। তাই সংবাদ সম্মেলনে বারবার জয়ের কথাই বলেছেন কাবরেরা।
বাংলাদেশ কোচ নিজের দলের উন্নতিটা বোঝাতে মালদ্বীপকে উদাহরণ হিসেবে টেনে এনে বলেন, ‘আমি মনে করি মালদ্বীপের বিপক্ষে তিন বছরে আমাদের পারফরম্যান্সই বুঝিয়ে দিচ্ছে কতটা উন্নতি করেছি। ২০২২ সালে হারের পর তিন বছরে তিন ম্যাচে ওদের জিততে দিইনি। তবে মালদ্বীপের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে তাদের ফরোয়ার্ডরা অসাধারণ। তাদের দুর্ভাগ্য শেষ দুই বছরে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারেনি। তারপরও আমি মনে করি প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা সহজ নয়। অবশ্য নিজেদের ওপর আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে আমরাই জিতব।’
বড় একটা সময় প্রতিযোগিতামূলক খেলায় না থাকাকে একটা দুর্বলতা মানছেন মালদ্বীপের কোচ আলি সুজাইনও, ‘বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানাই কারণ আমরা অনেকদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ছিলাম। তারা আমাদের এই সুযোগটা দিয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি হয়তো ততটা ভালো হয়নি। তবে ছেলেদের ওপর আমার আস্থা আছে। কারণ দলের বেশিরভাগ ফুটবলার ছোট ছোট টুর্নামেন্ট খেলেছে। ১৪ জন খেলোয়াড় গত আগস্ট থেকে মাজিয়া এফসির হয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের খেলার জন্য। এটা ছেলেদের জন্য নিজেদের প্রমাণ দেওয়ার এবং দেশের ফুটবলকে জাগিয়ে তোলার বড় সুযোগ।’
মালদ্বীপ খেলায় নেই বলে বাংলাদেশ দেখছে জোড়ায় জয়ের স্বপ্ন। তবে জিততে হলে নিজেদেরও যে গোল পেতে হবে। এ বছর এই গোলটাই গোলকধাঁধায় রূপ নিয়েছে। ছয় ম্যাচে ১৬ গোল হজমের বিপরীতে দলের গোলসংখ্যা মাত্র এক। তাই নির্ভার হয়ে মাঠে নামার সুযোগ নেই, সেটা পয়া ভেন্যু কিংস অ্যারেনায়ও।
সুইপের ফাঁদে তাওহীদ হৃদয়
হাজার গোল নিয়ে যা বললেন রোনালদো
দায়িত্ব ছাড়লেন নিস্তেলরয়, থাকছেন না আমোরিমের সহকারী হিসেবে