মহান আল্লাহ তার ইবাদতের জন্যই মানুষ সৃষ্টি করছেন। ইবাদতের প্রথম শর্ত হচ্ছে ইমান। মহান আল্লাহ এক, তার কোনো শরিক নেই, হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বান্দা ও রাসুল, এ কথাগুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস ও কাজে বাস্তবায়ন করার নামই ইমান। যারা ইমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদের জন্য রয়েছে পরকালীন মহাপুরস্কার জান্নাত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নিশ্চয় যারা ইমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।’ (সুরা কাহাফ ১০৭)
মহাপুরস্কার জান্নাতুল ফেরদাউস লাভ করতে হলে অবশ্যই ইমানি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ইমান এনেছি, শুধু এ কথা বললেই হবে না, বরং তা অনুযায়ী আমল করতে হবে। আর আল্লাহ অবশ্যই মুমিনদের পরীক্ষা করবেন। তাদের সাক্ষ্যের সততা যাচাই করবেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে যে, আমরা ইমান এনেছি বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে? আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? (সুরা আনকাবুত ২) অর্থাৎ মহান আল্লাহ অবশ্যই সব মুমিনকে পরীক্ষা করবেন।
মুমিনদের কীভাবে পরীক্ষা করা হবে, পরীক্ষার ধরন কেমন হবে, মহান আল্লাহ সে বিষয়টা অন্য আয়াতে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা, জানমাল ও ফল-ফলাদি বিনষ্টের মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা বাকারা ১৫৫)
দুনিয়া হচ্ছে মুমিন মুসলমানদের পরীক্ষাক্ষেত্র। পরীক্ষাক্ষেত্রে তারা যেকোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। দুঃখ, দুর্দশা, নির্যাতন, নিপীড়ন এখানে অস্বাভাবিক কিছু নয়। হজরত রাসুল (সা.) বলেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত। (সহিহ মুসলিম)
হজরত রাসুল (সা.) শিয়াবে আবি তালিবে তিন বছর বন্দি অবস্থায় ছিলেন। তাদের কাছে খাদ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ছিল। চরম খাদ্যসংকটে তার সঙ্গী-সাথীরা ঘাস, গাছের পাতা, পশুর চামড়া সিদ্ধ করে খেতেন। ইব্রাহিম (আ.) অগ্নিকু-ে নিক্ষেপিত হয়েছিলেন। সব নবী-রাসুল বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। শেষে মহান আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেছিলেন। আর মহান আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দুঃখ-কষ্টে পতিত করার মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দুঃখ-কষ্টে ফেলেন। (সহিহ বুখারি) সুতরাং কোনো দেশ বা অঞ্চলের মুমিন মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, বিধর্মীদের আঘাতে জর্জরিত হলে হতাশাগ্রস্ত হওয়া যাবে না।
এমন ধারণা করা যাবে না যে, ‘তারা হয়তো কোনো পাপাচারের লিপ্ত ছিল, তা না হলে তাদের এ অবস্থা হতো না। তারা যদি নেককার হয়ে থাকে, তাহলে মহান আল্লাহ কেন তাদের সাহায্যে করছেন না, কেন তাদের বিজয় দান করছেন না। মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান হওয়ার সত্ত্বেও তার বান্দাদের এই দুরবস্থা কেন? অসহায় নিঃস্ব ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর কি দয়ামায়ার উদ্রেক হয় না?’ এগুলো নেতিবাচক চিন্তা।
এমন নেতিবাচক চিন্তায় মগ্ন না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। কারণ এটা হতে পারে তাদের জন্য মহান আল্লাহর পরীক্ষা। যে পরীক্ষার ফল দুনিয়া অথবা আখেরাত অথবা উভয় জাহানেই তারা পেতে পারেন। মহান আল্লাহ বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত দিয়ে মানুষকে শুধু পরীক্ষা করেন বিষয়টা এমন নয়। অনেক সময় বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত মানুষের কর্মের কারণেও আসতে পারে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা ৩০)
