সিঙ্গাপুরের নাগরিক দাবি করে মামলার হুমকি এস আলমের

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৭ এএম

এস আলম গ্রুপের মালিক মো. সাইফুল আলম নিজেকে সিঙ্গাপুরের নাগরিক দাবি করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠা এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে ‘ভীতি প্রদর্শনমূলক’ ব্যবস্থা নিচ্ছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় তার সুরক্ষা প্রাপ্য বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষে একটি আইনি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি মামলা করতে পারেন। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এস আলম গোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন। ওই সাক্ষাৎকারের পরিপ্রেক্ষিতে এস আলম পরিবারের পক্ষে এ চিঠি দিয়েছে আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উর্কুহার্ট অ্যান্ড সালিভান। এ চিঠির একটি অনুলিপি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে এসেছে। তাদের অভিযোগ, গভর্নর এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তার এ বক্তব্যকে গ্রুপটির বিরুদ্ধে ‘ভীতি প্রদর্শনমূলক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এস আলম গ্রুপের এ চিঠি ও আন্তর্জাতিক সালিশি মামলার হুমকি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তাদের সবচেয়ে বড় পাল্টা আঘাত।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহসান মনসুর বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে সরকারপ্রধানের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। এর মধ্যে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম একাই এক হাজার কোটি ডলার দেশের বাইরে পাচার করে নিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যাংক ডাকাতির এটাই সবচেয়ে বড় ঘটনা। এ সাক্ষাৎকারটি গত মাসে প্রকাশিত হয়েছিল।

সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ভুল ও মানহানিকর।

সাইফুল আলম কবে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব পেয়েছেন, সে বিষয়ে আইনি প্রতিষ্ঠানটির কাছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানতে চাইলে তারা সাড়া দেয়নি। তারা এখনো বাংলাদেশের নাগরিক কি না, তাও জানা যায়নি। সিঙ্গাপুর সরকারও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি হয়েছে।

তবে দেশের একটি গণমাধ্যম বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের আইন মেনে বিদেশে বিনিয়োগের কোনো অনুমোদন সাইফুল আলম নেননি। দেশের যে কয়টা প্রতিষ্ঠান বিদেশে বৈধভাবে বিনিয়োগ করেছে, সেই তালিকায় সাইফুল আলমের নাম নেই।

অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের আইনে ২৫ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ২৩ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে সে দেশে নাগরিক হওয়া যায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। পাশাপাশি সেই দেশে আরও বিনিয়োগ করতে হয়। এটা করতে পারলে তাদের ছেলেসন্তানরা সিঙ্গাপুরে সরকারি চাকরি করার সুযোগও পায়। তবে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নিতে হলে ছাড়তে হয় নিজ দেশের নাগরিকত্ব।

সাইফুল আলম পরিবারের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের মন্তব্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মন্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। আরও বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের বিদেশি বেসরকারি আইন অনুসারে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে এস আলম ও তার পরিবারের অধিকার ও সুরক্ষা আছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু আন্তর্জাতিক সালিশি মামলা নয়, প্রয়োজনে অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এ অভিযোগের বিষয়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, তার দাবির শতভাগ ভিত্তি আছে। বিভিন্ন ব্যাংকে অনেক বছর ধরে এসব দুর্নীতি হয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণ সংকলন করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সংকলন করতে সময় লাগবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত