লেবাননে শিশুদের মৃত্যু যেন নীরব স্বাভাবিকতা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৪, ১২:১৩ এএম

লেবাননে গত দুই মাসে ইসরায়েলের হামলায় দুই শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১ হাজার ১০০ শিশু। এক বছরের বেশি সময় ধরে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত সম্প্রতি সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। মাস দুয়েক আগে থেকে দেশটিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী হামলা জোরদার করার পর এই শিশুদের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিন গড়ে তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। মঙ্গলবার ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জেনিভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লেবাননে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে এমন এক উদ্বেগজনক দশা তৈরি হয়েছে, যেখানে সহিংসতা থামাতে সক্ষম ব্যক্তিদের নিষ্ক্রিয়তা ফুটে উঠছে। লেবাননের শিশুদের জন্য মৃত্যু এখন ভয়ের নীরব স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে। জেমস আরও বলেন, লেবানন ও গাজার সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। সেখানেও নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গাজা যুদ্ধে নিহত শিশুর সংখ্যা ১৬ হাজারেরও বেশি। যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ শিশুকে মানসিক সহায়তা এবং চিকিৎসাসামগ্রী, খাবার ও ঘুমের ওষুধ দিচ্ছে ইউনিসেফ। গাজার মতোই লেবাননেও দুর্বিষহ পরিস্থিতি নীরবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এল্ডার।

এদিকে, মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের গাজা সফর করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হামাস আর এ ভূখ- শাসন করতে পারবে না। ইসরায়েল সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে হামাসের কাছে বন্দি জিম্মিরা এখনো গাজায় আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিজন জিম্মিকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, যেই আমাদের জিম্মিদের ক্ষতি করার দুঃসাহস দেখাবেন, তাকে চূড়ান্ত মূল্য দিতে হবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানও গাজায় নেতানিয়াহুর সফরসঙ্গী হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা কাতারের দোহা ছেড়েছেন। কাতার সরকার ও একজন জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, স্থায়ীভাবে নয় দোহায় হামাসের কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত