শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই এক যুগ পর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে তার এই অংশগ্রহণ অনেককেই আপ্লুত করেছে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বেগম জিয়ার সঙ্গে পাশাপাশি চেয়ারে বসে কুশল বিনিময় করেছেন, তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাকুঞ্জে পৌঁছালে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানরা। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হুইল চেয়ারে বসে অনুষ্ঠানস্থলে যান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে পৌঁছে তার আসনে বসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। আগেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়াকে অনুষ্ঠানে দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও। এ ছাড়া ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। কুশল বিনিময় শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে তিনটি ছবি শেয়ার দিয়ে লেখেন, ‘আপনাকে এই সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’
গোটা জাতি আজ আনন্দিত : অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যে সম্মান জানানো হয়েছে তাতে গোটা জাতি আনন্দিত।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়া এ দেশের জন্য তার জীবনের সবচেয়ে বড় সময়টা দিয়ে দিয়েছেন গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য। তাকে ১২ বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে সবচেয়ে দেশপ্রেমিক বাহিনী সেনাবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী থেকে দূরে করে রাখা হয়েছিল। আমি আজকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এবং বিমানবাহিনীর প্রধানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং বিশেষ করে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে, যে তিনি আজকে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) যে সম্মান দেখিয়েছেন, এতে আমরা যেমন কৃতজ্ঞ হয়েছি, একই সঙ্গে গোটা জাতি আজকে আনন্দিত হয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এজন্য যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই ঘোষণাকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার যে আপসহীন সংগ্রাম এই দীর্ঘ বছর ধরে নিরন্তর সংগ্রাম সেই সংগ্রামকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এ দেশের মানুষ যে সংগ্রাম, আত্মত্যাগ করেছে, প্রাণ দিয়েছে তাকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন।’
সেনাকুঞ্জের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহাসচিব ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জেএসডির আসম আবদুর রব, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এক সময় দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুজনেই এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন। রাজনীতির মাঠে বৈরিতা থাকলেও এ অনুষ্ঠান ঘিরে বছরে অন্তত একবার তাদের মুখোমুখি সাক্ষাতের সম্ভাবনা তৈরি হতো। তবে ২০১২ সালে দুই নেত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও তাদের মধ্যে কথা হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
