ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইটে মিলছে না সঠিক তথ্য। করা হচ্ছে না হালনাগাদ। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইট ভুল তথ্যে সয়লাব। এতে নাগরিকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
জানা যায়, ঘরে বসে সেবা পেতে এবং ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে জাতীয় তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে কাজে লাগাবেন নাগরিকরা। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বেশ কয়েকটি দপ্তরের কর্মকর্তা ও তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো তথ্য নেই। অথচ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী যেসব তথ্য স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রকাশ করার কথা, ওই সব তথ্যও নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জে ৩৩টি দপ্তরের পৃথক ওয়েবসাইট আছে। এছাড়া ১৭টি দপ্তর নিয়ে এসব পরিচালনার জন্য একটি কমিটি ও প্রয়োজনীয় জনবল আছে। এত কিছুর পরও নেই হালনাগাদ তথ্য।
সাধারণ মানুষের সেবায় সরাসরি যুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জাতীয় তথ্য বাতায়নের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে এখনও রয়ে গেছেন ডা. লোপা চৌধুরীর নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর। অথচ তিনি অনেকদিন আগেই বদলি হয়ে চলে গেছেন। ওয়েবসাইটটি সর্বশেষ হাল নাগাদ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১৮ জুন।
এদিকে চলতি বছরের ৮ অক্টোবর উপজেলা যুব উন্নয়ন দপ্তরের ওয়েবাসাইটের সর্বশেষ হাল নাগাদ দেখালেও ওয়েবসাইটে নেই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর। একই চিত্র উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে। রয়েছে আগের পিআইওর নাম। ওয়েবসাইটে নেই ওয়েবসাইট হাল নাগাদের সর্বশেষ তারিখও।
অপরদিকে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের ওয়েবসাইট থাকলেও নেই কর্মকর্তা ও তার মোবাইল নম্বর। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর শাখার উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলীর (সওজ) কার্যালয়ের নেই আলাদা কোনো ওয়েবসাইট।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি মাথার ওপরে রেখে নিচে বিভিন্ন দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে দাঁড়ানোর একটি ছবি আপলোড করে রাখা হয়েছে। জনগণের সাথে সার্বক্ষণিক সম্পর্কযুক্ত অপর একটি দপ্তর হলো থানা-পুলিশ। থানার ওয়েবসাইটে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাম লেখা মো. মাজেদুর রহমান। তিনি প্রায় তিন মাস আগে বদলি হয়েছেন। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ওসি হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. ওবায়দুর রহমান। তার সম্পর্কেও সেখানে কোনো তথ্য নেই। সাইটটিতে দেখাচ্ছে সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছিল চলতি বছরের ১৩ আগস্ট।
এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের অধীনে মধুপুর বাজার কৃষি শাখার ব্যবস্থাপক(মূখ্য কর্মকর্তা) মো. শামছুল হক ২০২১ সালে অবসরে গিয়েছেন। তার আগে ২০১৬-১৭ সালে মধুপুর বাজার কৃষি শাখার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৮ বছরেও ওয়েবসাইট থেকে সরেনি তৎকালীন মধুপুর বাজার কৃষি শাখার ব্যবস্থাপকের নাম। যুক্ত হয়নি গত আট বছরে যারা দায়িত্ব পালন করেছে তাদের নাম কিংবা মোবাইল নম্বর।
উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জের অনেক সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্য আপডেট নেই। কিছু কিছু ওয়েবসাইট আছে, যেগুলোতে কর্মকর্তার নাম ও যোগাযোগের করার তথ্য নেই। আমরা এসব থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না।’
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক শরিফুল আলম বলেন,‘উপজেলার বিভিন্ন তথ্যের জন্য সরকারি ওয়েবসাইটে ঢুকি। কিন্তু অধিকাংশ ওয়েবসাইটে তথ্য নেই। এতে আমরা পেশাগত কাজে ও সাধারণ মানুষ ঘরে বসে সেবা নিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন।’
সদ্য অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা আইসিটি অফিসার মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করিনি, আগামী রবিবার দায়িত্ব নিব।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তার বলেন, ‘প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদের জন্য বলে দেওয়া হবে। তারা যদি তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করেন, তাহলে জনসাধারণ তথ্য পাবে।’
নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আমরা চলে যাব: ধর্ম উপদেষ্টা
৫ দেশ ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করল বাংলাদেশ
বেনাপোল বন্দরে কম শুল্কে আরও ২ লাখ ৩২ হাজার ডিম খালাস