চট্টগ্রাম নগরীর হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ এস এম আইয়ুব (৫৯) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই শিক্ষকের মৃত্যুর পর কলেজের উপাধ্যক্ষ পদ থেকে তাকে জোর করে পদত্যাগ করানোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনা এসেছে। কলেজের শিক্ষার্থীরা শোক জানানোর পাশাপাশি বিষয়টি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এস এম আইয়ুবের মৃত্যুর পর গতকাল দুপুরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। যাতে দেখা যায়, সাবেক এই উপাধ্যক্ষের মরদেহ স্ট্রেচারে করে হাসপাতাল থেকে বের করা হচ্ছে। চারপাশে আহাজারি করছেন স্বজন, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। তাদের কেউ কেউ অঝোরে কাঁদছেন।
জানা গেছে, অসুস্থতাবোধ করলে গতকাল সকালে এস এম আইয়ুবকে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিক্ষার্থীদের বেতন কমানো ও আইডি কার্ড প্রদানসহ চার দাবিতে গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ করেন হাজেরা তজু কলেজের একদল শিক্ষার্থী। যার ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর পদত্যাগপত্র লিখে জোর করে তৎকালীন উপাধ্যক্ষ এস এম আইয়ুবের কাছ থেকে সই করানো হয়। পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার পর চেতনা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ৩৩ বছর ধরে ওই কলেজে শিক্ষকতা করা এই শিক্ষক। সেদিনের পর থেকে আর কলেজের শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেননি তিনি। গত সোমবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের অ্যাডহক কমিটির মিটিং না হওয়ায় এখনো সেই পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রও কলেজ কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক এখনো গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
অধ্যাপক এস এম আইয়ুবের মৃত্যুর বিষয়ে তার ভাগ্নে মোফাজ্জেল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জোর করে পদত্যাগ করানোর বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন মামা। মামার তিন ছেলে। সবাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। তারা থাকে নগরের মৌলভি পুকুরপাড় এলাকায়। গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীর ৬ নম্বর বৈলছড়ি ইউনিয়নে। মামাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।’
অধ্যাপক এস এম আইয়ুবের মৃত্যুর খবরে হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার হাসান তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘ছাত্র হিসেবে আমরা লজ্জিত। আপনার এভাবে পরিণতি হবে চিন্তাও করতে পারলাম না। অপমান মেনে নিতে পারলেন না স্যার। শেষ পর্যন্ত না-ফেরার দেশে চলে গেলেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই কলেজের অধ্যক্ষ চয়ন দাশ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এস এম আইয়ুবের কোনো রোগব্যাধি ছিল না। জোরপূর্বক পদত্যাগের ঘটনার পর আর কলেজের শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেননি। এর মধ্যে ১৮ নভেম্বর ডাকযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সেখানে ব্যক্তিগত কারণ দেখান। তিনি খুব ভালো শিক্ষক ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ব্যথিত।’
