হামাসের প্রতি সমর্থন বাড়ছে ইসরায়েলি তরুণদের

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০১:২৯ এএম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ইহুদিদের মধ্যে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। বিশেষভাবে, তরুণ প্রজন্মের কাছে হামাসের প্রতি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হচ্ছে। তেল আবিবের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে এ চমকপ্রদ তথ্য। এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মধ্যে। গাজায় তেল আবিবের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের নিন্দা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি একাত্মতা জানিয়েছে তারা। শনিবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইহুদি তরুণ-তরুণীদের ওপর এই জরিপ চালিয়েছে ইসরায়েলের প্রবাসীকল্যাণ ও ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে জরিপটি চালানো হয়। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ ইসরায়েলি তরুণ-তরুণীরা হামাসের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। একই সময়ে আরও কয়েকটি দেশে এই জরিপ চালানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসরত ফিলিস্তিনি তরুণদের মধ্যে হামাসকে সমর্থনের হার মাত্র ৭ শতাংশ। শুধু হামাসের প্রতি সহমর্মিতা নয়, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ তরুণ মনে করে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে তেল আবিব। যদিও অন্যান্য দেশে থাকা ইহুদি তরুণদের মাত্র ১০ শতাংশ এর পক্ষে মত দিয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ শতাংশ ইহুদি কিশোর-কিশোরী। তবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইসরায়েলপন্থি মনোভাব পোষণ করেছে। ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের ৬২ শতাংশ তরুণ নিজেদের ইহুদিবাদী বলে বিবেচনা করেন। অন্যদিকে ৮৪ শতাংশ বলেছে, একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের টিকে থাকার অধিকার রয়েছে।

এদিকে, বিশেষ এই জরিপের ফলাফলে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসরায়েল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিজ দেশের সংস্কৃতি থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকার ফলেই তাদের চিন্তাধারায় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের ইহুদি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তারা নিজেদের সার্বভৌমত্বের কথা বললেও, এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত তারা। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহত হয় ১ হাজার ২০০ মানুষ। জিম্মি করা হয় আরও ২ শতাধিক ইসরায়েলিকে। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে নিহত হয়েছে ৪৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত