মঈন খান বললেন

দ্রুত সংস্কার করে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৪৪ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার একটি ভালো ব্যবস্থা নিয়েছে। অনতিবিলম্বে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রের পথে আসতে এই সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ড. মঈন এ কথা বলেন। মহিদুর রহমান ১৭ বছর পর গত ১৬ নভেম্বর সকালে দেশে ফেরেন।

মঈন খান বলেন, ‘সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটা কোনোদিন থেমে থাকে না। স্বৈরাচার ব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তর করতে হবে এটাই হচ্ছে এই সরকারের মূল ম্যান্ডেট। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স বন্ধ করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কুঠারাঘাত করেছিলেন তারা। এসব বিষয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কারণে আজ আমরা এখানে আসতে পেরেছি।’

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক ব্যর্থতা দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশে দুর্নীতি, লুটপাট করে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে তারা। একটি দল জনগণের ওপর অত্যাচার করে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে বলেই দেশের মানুষ মুক্তি পেয়েছে। মিথ্যা মামলায় অনেকেই বিদেশ চলে গিয়েছিল। তাদের দেশের মাটিতে চলে আসার সুযোগ হয়েছে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের আহ্বায়ক এনামুল হক মোল্লা, সদস্য সচিব রিয়াজউদ্দিন বাদশা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জনগণের প্রকৃত মালিকানা ফেরত দিতে হবে। গণতন্ত্রকে তার সঠিক জায়গায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, মানুষ চিন্তা করবে তার ভোট কাকে দেবে। দেশ শাসন কে করবে, সেটা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। সংস্কার অবশ্যই হবে। সংস্কার করতে হলে জনআকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে সংবিধান। সবকিছু আপনি-আমি করে ফেললে হবে না। মানুষ কী চায়, সেটা আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। জনগণের মতামতের সুযোগ হচ্ছে ভোট।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন, বিএনপি তাড়াতাড়ি ভোট চায়। সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে বসে আছে, কখন তারা নিজের অধিকার প্রয়োগ করবে। সেজন্য বিএনপি বলছে, যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভব নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচন যত দ্রুত দেওয়া হবে, তত দ্রুত বিশৃঙ্খলা দূর হবে। আজকের বাস্তবতায় সেটি (নির্বাচন) হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয়তা।’

ন্যাবের সভাপতি জাহানারা খাতুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত