আলোচনায় নেতানিয়াহু ও ইউক্রেন যুদ্ধ

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৫৩ এএম

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সাত দেশের অর্থনৈতিক জোট জি৭। গতকাল সোমবার ইতালিতে এই জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুদিনের সম্মেলন শুরু হয়েছে। এবারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেবানন-গাজার চলমান সংকট এবং সেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও হামাসের সামরিক প্রধানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের পাশাপাশি ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও যোগ দিয়েছেন। এই সম্মেলনে সভাপতির ভূমিকায় থাকবেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। গতকাল বিকেলে প্রথম অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন জি৭ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। আলোচনায় গাজা ও লেবাননে যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ সফল করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। তবে ভিন্ন আরেকটি অধিবেশনে আরব লিগের মহাসচিব এবং সৌদি আরব, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মন্ত্রীরা যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এক বিবৃতিতে আন্তোনিও তাজানি বলেন, আমরা জি৭ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের উপস্থিতি কামনা করছি। এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সমাধান আনার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে বলে যোগ করেন তিনি। আজ মঙ্গলবার আলোচনা মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে ইউক্রেনের দিকে আগাবে। এই অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিগা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কীভাবে কিয়েভের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি, শান্তির উদ্যোগ ও আগামীতে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পাবে।

গত বৃহস্পতিবার গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও হামাস নেতা মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতি সম্মান জানাবে। তবে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা আইসিসির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত