পাকিস্তানে ইমরান খানের হাজারো সমর্থক গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:২৬ এএম

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি ও বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশটি। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদে পিটিআই সমর্থকদের ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশ ঠেকাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইমরান খানের কয়েক হাজার সমর্থককে। রাস্তাঘাট বন্ধের পাশাপাশি জারি করা হয়েছে লকডাউন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট সেবা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক। পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শহীদ নওয়াজের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাজারো সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দলের পাঁচ পার্লামেন্ট সদস্যও আছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, ইমরান খান সমর্থকরা ইসলামাবাদের রেড জোনে পৌঁছালে কর্র্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করবে। তিনি বলেন, কেউ সেখানে পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। পিটিআইয়ের এই কর্মসূচি জনগণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে নকভি বলেন, ইসলামাবাদের বাসিন্দা ও তাদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য নিরাপত্তার স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পিটিআই নেতারা জানিয়েছে, সোমবার সকালে ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থক রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করেছে। কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মিছিলকারীদের থামানোর চেষ্টায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ইমরান খান সমর্থকদের গ্যাস মাস্ক ও প্রতিরক্ষামূলক চশমা পরে থাকতে দেখা গেছে। সোমবার বিক্ষোভকারীদের বহনকারী গাড়ির একটি বহর রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ৯ থেকে ১১ হাজার বিক্ষোভকারীর প্রত্যাশা করছেন, অন্যদিকে পিটিআই বলছে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে। পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও ইমরানের ঘনিষ্ঠ নেতা আলি আমিন গান্দাপুর ভিডিও বার্তায় বলেছেন, মানুষ যেন শহরের ডি চকে জমায়েত হন। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবিপূরণ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওখানে অবস্থান করার জন্য ইমরান খান নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এর আগে গত অক্টোবরেও পুলিশ ইসলামাবাদে এভাবেই ইমরানের সমর্থকদের বিক্ষোভ বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল। তখন বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। সহিংসতায় একজন পুলিশকর্মী মারা যান। আহত হন অনেক নিরাপত্তা কর্মী। সেবারও বহু বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপক্ষ একে অন্যের প্রতি সহিংসতার অভিযোগ আনে। পুলিশের অভিযোগ, গোলযোগ সৃষ্টির জন্যই এই বিক্ষোভ ডাকা হয়েছে। ইমরানের দলের নেতাদের দাবি, অন্যায়ভাবে তাদের নেতাকে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিলে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবে হেরে গিয়ে ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল ইমরান খানকে। ২০২৩ থেকে জেলে বন্দি আছেন তিনি। ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৫০টির মতো ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। তার সমর্থকদের দাবি, ইমরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশে মামলা করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ইমরানকে জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু আইনি জটিলতায় তিনি মুক্তি পাননি। ইমরান অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত