রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গতকাল সোমবার পুরনো আলু বিক্রি হয়েছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নভেম্বর মাসে এমন চড়া দামের আলু বিক্রি হতে দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত সিন্ডিকেটের কারণেই এবার আলুর দামের এমন অবস্থা।
এদিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রতিনিধি জানান, আলু ও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পণ্য দুটির রপ্তানি স্লট বুকিং বন্ধ রেখেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর ফলে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু ও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমদানি বন্ধের ফলে পেঁয়াজের দাম না বাড়লেও আলুর দাম কেজিতে ৭ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে।
গত রবিবার দুপুর থেকেই পেঁয়াজ ও আলুর স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গতকাল বেলা ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্লট বুকিং বন্ধ ছিল।
গত শনিবার বন্দরে আমদানি করা লাল আলু ৫৬-৫৭ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, যা রবিবার আমদানি জটিলতার বন্ধের খবরে দাম বেড়ে ৬৫ টাকায় উঠে যায়। এ ছাড়া সাদা আলু শনিবার ৫০ টাকা বিক্রি হলেও রবিবার তা ৬০ টাকায় উঠে যায়।
ভারতের হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অনিল সরকার বলেন, পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে অনলাইনে ট্রাকের জন্য স্লট বুকিং নিতে হয়। এরপরই সেই পণ্যের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশে গতকাল দুপুর থেকে পেঁয়াজ ও আলুর স্লট বুকিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় রপ্তানিকারক রাম কৃষ্ণ দাস বলেন, আমি ভারত থেকে বাংলাদেশে আলু রপ্তানি করি। অন্যান্য দিনের মতো রবিবার আমি আলু রপ্তানি করেছি কিন্তু দুপুরে শুনতে পারলাম যে আলু ও পেঁয়াজের স্লট বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এতে আমরা রপ্তানিকারকরাও অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছি। ভারতের উত্তরপ্রদেশ পাঞ্জাব হরিয়ানা অঞ্চল থেকে যেসব আলু বোঝাই হয়ে আসছে, সেসব ট্রাকগুলো রাস্তায় রয়েছে। এখন এ অবস্থায় এসব আটকে গেলে আলু পচে নষ্ট হয়ে যাবে, আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়ে যাব।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলছে, তাদের রাজ্যে উৎপাদিত আলু ও পেঁয়াজ ভিনদেশে রপ্তানির ফলে বাজারে পণ্য দুটির দাম বেড়ে যাচ্ছে, যার কারণে এ স্লট বুকিং বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের আলু আমদানিকারক মোস্তফা হোসেন বলেন, বাজারে দেশীয় আলুর সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছেই। যার কারণে ভারত থেকে আলু আমদানি করা হচ্ছিল। এখন হঠাৎ করে যদি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তো আমরা ক্ষতির মুখে পড়ে যাব। আলুর দামও বেড়ে যাবে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আলু ও পেঁয়াজ আমদানি যেমন অব্যাহত ছিল, তেমনি আমদানির পরিমাণ বাড়তির দিকে ছিল। রবিবার বন্দর দিয়ে ৭২টি ট্রাকে ২ হাজার ৩৯ টন আলু আমদানি হয়েছিল। সোমবার তা অনেক কমে গেছে। বেলা ৩টা পর্যন্ত এক ট্রাক আলু আমদানি হয়েছে।
ফোনে ফোনে আলুর দাম নির্ধারণ করেন মজুতদাররা
শিক্ষার্থীদের লাগামহীনতার কারণ কী?
৪০ হাজার কোটি চাঁদা তোলা হতো অটোরিকশা থেকে!