ভারতের শ্রম বাজারে বাড়ছে নারীদের অংশগ্রহণ
গত ছয় বছরে ভারতের শ্রম বাজারে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে দেশটিতে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চালানো ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নীতি আয়োগের এক জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। খবর টাইমস অব ওমান।
জরিপে গত ৬ বছরে ভারতে অর্থনৈতিক খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বেকারত্বের হার হ্রাস, দক্ষ ও শিক্ষিত নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন কর্মসংস্থান বিভাগর নারীদের উপস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হয়।
জরিপে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী ভারতে শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের হার প্রায় ২৩ শতাংশে ছিল। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি সামাজিক ইতিবাচক মনোভাব এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
জরিপে বলা হয়, নারীদের এই অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি গ্রামাঞ্চলে এবং কৃষিখাতে। দুগ্ধ খামার, মৎস্য চাষ এবং পশু পালন কিংবা সবজি চাষের মত বিষয়ে নারীদের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শহুরে এলাকাতে নারীদেরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা এবং প্রযুক্তির মতো খাতগুলোতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এসব খাতও ক্রমবর্ধমানভাবে লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মূল্যকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
জরিপে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নারীদের বেকারত্বের হার ছিল আনুমানিক ১৫ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।
স্কিল ইন্ডিয়া'-এর মতো উদ্যোগে লাখো নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে যার মাধ্যমে নারীরা দক্ষ হয়ে উঠতে পেরেছে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের সম্প্রসারণ এই কাজকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এছাড়া নারীদের নিয়ে সরকারি বেসরকারি নানা প্রকল্প শ্রম বাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করেছে।
এছাড়া 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও' (কন্যা বাঁচাও, কন্যাশিশু বাঁচাও) প্রচারাভিযানগুলো ভারতে মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে, যার ফলে নারীদের মধ্যে উচ্চতর শিক্ষা এবং স্নাতকের হার বেড়েছে।
জরিপে আরও বলা হয়, ভারতে শ্রম বাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মজুরিও বার্ষিক ৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
১১৭ বছরের মধ্যে রেকর্ড তুষারপাত সিউলে, নিহত ৪
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন মমতা ব্যানার্জী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী