শেরপুরে পীরের দরবারে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৪২ পিএম

শেরপুর জেলার সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবার (মুর্শিদপুর পীরের দরবার) ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

এ দিকে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মুর্শিদপুর দরবার শরীফ এলাকায় এবং কুসুমহাটি বাজার এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অবস্থান নেয়। 

জানা গেছে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক লছমনপুর এলাকায় অবস্থিত মুর্শিদপুর দরবার শরিফে ইসলাম পরিপন্থী কার্যক্রম চলায় বলে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার ফজরের আগ মুহূর্তে ৪০০/৫০০ জন মাদ্রাসার ছাত্র ও স্থানীয় জনতা মুর্শিদপুর পীরের দরবারের হামলা চালায়।এ সময় দরবারে থাকা খাদেম ও মুরিদরা তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন । পরে বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাফিজ উদ্দীন নামে একজন মারা যান। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কুসুমহাটি জমশেদ আলী কলেজ মাঠে নিহত হাফেজ উদ্দিনের জানাজায় অংশ নেয় কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় বক্তারা সবাইকে শান্ত এবং ধৈর্য্য ধারণ করার আহ্বান জানান। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে জনগণ। পরে তারা পুনরায় হামলার উদ্দেশ্যে মুর্শিদপুর দরবার শরীফের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিলে তারা লাঠিসোটা, দা এবং ধারালো অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে দরবার শরীফের গিয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।

বক্তারা বলেন, আহতদের মধ্যে হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় যারা হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে তাদেরকে হ্যান্ডকাপ খুলে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়াও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোজা পীরকে গ্রেপ্তার করা না হলে তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান। এ দিকে নিহত হাফেজ উদ্দিনের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে হত্যকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত