মহেশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের দাবি পরিবেশবাদীদের

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৫৭ পিএম

পরিবেশ ধ্বংস করে কক্সবাজারের মহেশখালীর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো হয়েছে ও এটিকে মরণঘাতী হিসেবে চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধের দাবি তুলেছেন কক্সবাজারের পরিবেশবাদীরা। 

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় কক্সবাজার শহরের একটি অভিজাত হোটেলে কক্সবাজারের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন এমন কথা বলেন বক্তারা। 

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ ফর ইকোলজি কনজারভেশন ও কক্সবাজার জনসুরক্ষা মঞ্চ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ইয়ুথ ফর ইকোলজি কনজারভেশনের টিম লিডার এস. এম. রুবেল বলেন, মহেশখালী দ্বীপের ইসিএ এলাকার ১৫ হাজার একর প্যারাবন কেটে ঘের বানিয়েছে একটি চক্র। পাহাড় ও বন কেটে জমি দখল করেছে প্রভাবশালীরা । এ ছাড়া ১ হাজার ৪১৪ একর জমিতে পরিবেশ ধ্বংস করে বানানো মরণঘাতী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ১৯১ একর পাহাড় কেটে বানানো এসপিএম প্রকল্প দ্রুত বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ জ্যামিতিক হারে চলতে থাকায় বিশ্বের অন্যতম সমুদ্র নগরী কক্সবাজার প্রায় ধ্বংসের ধারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়া, ইসিএ আইনকে অমান্য করে ঝাউবাগান উজাড় ও সমুদ্র সৈকত দখল, প্লাস্টিকের অপরিকল্পিত ব্যবহারে নদী ও সমুদ্র দূষণ, বাঁকখালী ও কোহেলিয়া নদী দখল, পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প গ্রহণ, পাহাড় কাটা ও বন উজাড়, সমুদ্রে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, প্যারাবন উজাড় করে ঘের নির্মাণ, বন্য প্রাণী আহরণ ও পাচারসহ নানান ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ চলমান আছে।

কক্সবাজার জনসুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাকী বলেন,  কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সমুদ্রের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় পূর্বের ন্যায় কাছিম ডিম দিতে আসে না। এ সংখ্যা প্রতি বছর কমছে। এ ছাড়াও সৈকতের ইসিএ এলাকায় আইন না মেনে ভবন নির্মাণ, জমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। 

মহেশখালী জনসুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মহসিন বলেন, মাতারবাড়িতে বন্দর স্থাপনের জন্য ৬০০ একর নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। এসব জমির বেশির ভাগই ত্রিফসলা জমি এবং মানুষ বসবাস করছে। পরিবেশগত ঝুঁকি থাকলে এই প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত