শেরপুরের নালিতাবাড়ী ইউএনও’র নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আব্দুল কাদের জিলানী ও হারুন অর রশিদ নামে দুই ব্যক্তি। তারা দু’জনেই বালু মহাল ইজারাদার। ঐ সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করতে পুলিশ নিয়ে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা।
এসময় ইজারাদারকে তুলে আনতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসেন ইউএনও। সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে নালিতাবাড়ী শহরের উত্তর গড়কান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বালু মহাল ইজারাদার আব্দুল কাদের জিলানি ও হারুনুর রশিদের অভিযোগ, নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা নিজে লাভবান হওয়ার জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে ইজারার স্থানে মোবাইল কোর্ট করে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করে আসছেন। এছাড়াও তাদের অভিযোগ নিলামে জব্দকৃত বালু জেলা প্রশাসন থেকে নিলাম কমিটি গঠনের আগেই এবং উপজেলা প্রকৌশলীর বালুর মূল্য সংক্রান্ত লিখিত মতামত উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে ৬ কোটি টাকার বালু মাত্র ৯৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।
ইজারাদাররা আরও বলেন, ইউএনও’র নির্দেশে নিলাম গ্রহীতারা অবৈধভাবে মিনি ড্রেজার বসিয়ে নদীর তীর ভেঙে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেন। এভাবে ইউএনও’র মদদে ৪৪ দিন ধরে চলে অবৈধ বালু উত্তোলন। এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন সময় প্রতিকার চেয়েও প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন।
আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, আমরা জিলানী এন্টারপ্রাইজের নামে বৈধভাবে ভুগাই নদীর লাল বালু প্রায় কোটি টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। এই ইউএনওর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। আমরা ঠিকভাবে বালু উত্তোলন করতে পারছি না। তাই এই বিষয়গুলোই সাংবাদিকদের অবহিত করার জন্য আজকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু ইউএনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ নিয়ে এসেছে। আমার নামে মামলা বা কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও নেই।
শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার আদিল মাহমুদ উজ্জল দেশ রূপান্তরকে বলেন, জিলানী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদির জিলানী নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে দুপুরে তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ইউএনও মাসুদ রানা ও সহকারী কমিশনার ভূমি সশরীরে পুলিশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। তারা সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে সাংবাদিকদের সামনে থেকে ইজারাদার জিলানী ও হারুন-অর-রশিদকে সংবাদ সম্মেলন করার অপরাধে আটক করতে উদ্যত হন। এসময় সাংবাদিকরা আটকের কারণ জানতে চাইলে ইউএনও বিষয়টি পরে জানানোর কথা বলে স্থান ত্যাগ করেন। এসময় নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, সরেজমিনে আসেন আমার সাথে দেখা করেন।
থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয়ের তদন্ত হবে: পর্যটন উপদেষ্টা
কমনওয়েলথ স্বর্ণজয়ী শুটার সাদিয়ার অকালমৃত্যু
সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা