থানা থেকে লুট করা পিস্তল দিয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে প্রেমিকা সাহিদা আক্তারকে হত্যা করে প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৮)। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে লুট করা অস্ত্র দিয়ে প্রেমিকার বুকে-পিঠে টানা কয়েকটি গুলি করে। হত্যাকাণ্ডের পর সেই অস্ত্র ফেলে দেয় ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি পুকুরে। ঘটনার দুদিন পর গতকাল সোমবার ভোলার ইলিশা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে তৌহিদ শেখ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে থানা লুটের অস্ত্র দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর এমন তথ্য জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. ইশতিয়াক আশফাক রাসেল।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার তরুণকে (তৌহিদ শেখ তন্ময়) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেছেন যে ৫ আগস্টের পর ঢাকার ওয়ারী থানা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি লুট করেছেন।’ তবে এ বিষয়ে গতকাল রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী থানার ওসি ফয়সাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এরকম কোনো তথ্য মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে অবশ্যই আমাদের মেসেজ দেবে। তখন বিস্তারিত বলতে পারব।’
গ্রেপ্তার তৌহিদ রাজধানী ঢাকার ওয়ারীর বনগ্রাম এলাকার প্রয়াত শফিক শাহর ছেলে। নিহত তরুণীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তৌহিদ কৌশলে শাহিদার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। আর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় শাহিদাকে হত্যা করে তৌহিদ।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সমসপুর এলাকায় দোগাছি সার্ভিস সড়ক থেকে শাহিদা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পাশে কয়েকটি গুলির খোসা পড়ে ছিল। শাহিদার শরীরে আটটি গুলির ছিদ্র ছিল। তিনি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার বেগুনবাড়ির বরিবয়ান এলাকার আবদুল মোতালেবের মেয়ে। ভাড়া থাকতেন ঢাকার ওয়ারী এলাকার একটি বাসায়।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাতে নিহত তরুণীর মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। পরে গত রবিবার সকালে ওই মামলায় একমাত্র নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয় তৌহিদকে।
