গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখনই এই পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। গত রবিবার গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের কাছে এ ব্যাপারে একটি চিঠি দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে।
ওই চিঠিতে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে প্রচলিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। কয়েক দিন আগে উপাচার্যরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। দেখা গেছে যে, গুচ্ছ পরীক্ষার পক্ষে-বিপক্ষে বিবিধ যুক্তি আছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে এ পদ্ধতির সংশোধন করারও সুযোগ
থাকবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে।’
উপাচার্যদের কাছে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ইতিমধ্যে অভিভাবক ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল রাখার পক্ষে স্মারকলিপিও পেয়েছি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতিতে ভর্তির ব্যবস্থা অনুসরণ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে আপনাকে সবিনয় অনুরোধ করছি।’
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তিতে গুচ্ছ পদ্ধতির বিষয়ে জরুরি বৈঠক করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বেশি এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে মতামত দেয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে দেশের ২৪টি সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে জিএসটি গুচ্ছ, তিনটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে প্রকৌশল এবং ৯টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও খরচ কমাতে এ উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার।
