অভিশংসনের মুখে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২২ এএম

হঠাৎ করেই সামরিক শাসন জারি করে আবার কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অভিশংসন করার উদ্যোগ নিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদের আইনপ্রণেতারা। গতকাল বুধবার সংসদে ইওলকে অভিশংসন করার জন্য একটি বিল উত্থাপন করে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের একটি জোট। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃত দেশটিতে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আকস্মিকভাবে সামরিক শাসন জারি করার ঘোষণা দেন ইওল। বিস্ময়কর এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে পড়ে বিরোধী দলগুলো। এমনকি বাদ যাননি তার নিজ দলের নেতাকর্মীরাও। জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন বার্তায় তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট বাহিনী থেকে দেশকে রক্ষা ও রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান নির্মূলের জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে তিনি তখন সুনির্দিষ্ট করে কোনো হুমকির কথা উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে দেশে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ ও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান তিনি।

ইউনের এ ঘোষণার পরপরই সিউলে সংসদ ভবনকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। সামরিক শাসন কায়েমের নির্দেশের পর পুরো দেশে গোলযোগ শুরু হয়। পথে নেমে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষ। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। হেলমেট পরা সেনারা সংসদের জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। আকাশে সেনা হেলিকপ্টারের টহল শুরু হলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। সংসদের বাইরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের।

কিন্তু এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে সামরিক শাসন প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাস হয়। সে সময় ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে ১৯০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ইওলের দলের ১৮ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারাও সামরিক শাসন প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেন। এরপর বাধ্য হয়ে প্রেসিডেন্ট তার আগের ঘোষণা থেকে সরে এসে সামরিক আইন প্রত্যাহারের কথা জানান। তার এই ঘোষণার পর পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জমায়েত হওয়া বিক্ষোভকারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। গতকাল বুধবার বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের জোটের সদস্য হোয়াং উন হা বলেন, দ্রুতই প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম স্থগিত ও তাকে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করার দিকেই এখন পার্লামেন্টের নজর থাকা উচিত। সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিয়নকে বরখাস্ত ও পুরো মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে ইওলের ক্ষমতাসীন দল পিপল পাওয়ার পার্টি। প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি পৃথকভাবে ইওলকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল সিউলে বড় একটি সমাবেশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ট্রেড ইউনিয়ন। ইউনিয়নের সদস্যরা ইওল পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কর্মবিরতিতে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। এর আগে ১৯৮০ সালে সর্বশেষ দেশটির কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে অভিশংসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।

পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিলে একটি সাংবিধানিক আদালতে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শুনানি শেষে এই আদালতের ৯ বিচারকের মধ্যে ছয়জন সম্মতি দিলে অভিশংসন কার্যকর হবে। পার্লামেন্টে ইওলের দলের আসন সংখ্যা ১০৮। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে বা তাকে সরিয়ে দেওয়া হলে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তেমনটা হলে অন্তর্বর্তী সময়ে দেশপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত