বিদ্যুতে বছরে সাশ্রয় সম্ভব প্রায় ১৪ হাজার কোটি

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৪৩ এএম

বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বছরে ১২০ কোটি ডলার (১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা) সাশ্রয় করা বা আর্থিক ক্ষতি কমানোর সুযোগ আছে বলে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সংস্থাটি বলছে, বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি কমাতে পারলে এ খাতে সরকার প্রতি বছর যে ভর্তুকি দিচ্ছে তা কমে আসবে। ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির বোঝা শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত বার্ষিক ১ দশমিক ৮ গুণ রাজস্ব বৃদ্ধির বিপরীতে পিডিবির বার্ষিক ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ৬ গুণ। এতে সরকারকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরেই ৩৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে পিডিবি।

ভর্তুকি কমাতে সরকারকে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মত দিয়েছে আইইইএফএ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পে উৎপাদিত নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার অর্ধেক জাতীয় গ্রিড থেকে মেটাতে হবে। নতুন করে তিন হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করে এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণে অপচয় ৮ শতাংশের মধ্যে রেখে এই অর্থ বাঁচাতে পারে পিডিবি।

গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখক ও আইইইএফএর বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ‘রোডম্যাপে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে নতুন বিনিয়োগ কমিয়ে এনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ভর্তুকির পরিমাণ শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে শিল্পকারখানাগুলোকে পুরোপুরি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে হবে। গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি থেকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে স্থানান্তরিত হওয়া উচিত। গ্যাসচালিত বয়লারের পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত বয়লার ব্যবহার করতে পারে শিল্প। এতে বিদ্যুৎ বিক্রি করে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ পাবে পিডিবি।

শফিকুল আলম মনে করেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের রিজার্ভ মার্জিন (কোনো একটি নির্দিষ্ট অবকাঠামোর সক্ষমতার যে পরিমাণ অব্যবহৃত থাকে) বর্তমানে ৬১ দশমিক ৩ শতাংশের আশপাশে, যা অতিরিক্ত সক্ষমতা সমস্যার ইঙ্গিত দেয় এবং পিডিবির ভর্তুকিনির্ভরতার একটি প্রধান কারণ এটি। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার কারণে নিকট ভবিষ্যতেও এ খাতে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি ও ভর্তুকি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত