শীতকাল আসলেই প্রতিবছর ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরেও দূষণের দিক থেকে ঢাকার বাতাস প্রায়ই ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ও ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের সূচকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার স্কোর ছিল ৩৪১। এ মানকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকার বাতাস সবসময় ‘অস্বাস্থ্যকর’ থাকছে। কেন ঢাকার বাতাস এত অস্বাস্থ্যকর?
বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবছর এই সময়ে ঢাকার বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর থাকে। এটি জানা সত্ত্বেও আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি কিংবা পরিকল্পনা থাকে না। কীভাবে ঢাকার বাতাস স্বাস্থ্যকর করা যায় সেই বিষয়ে দুই সিটি কর্পোরেশন দায়িত্ব অনেক বেশি। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন রাস্তায় পানি ছিটিয়েই সেই দায়িত্ব শেষ করেন। কিন্তু তাদের উচিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে রাস্তার ধুলো ও ময়লা প্রতিদিন পরিষ্কার করানো। যাতে রাস্তায় ধুলোর আস্তরণ না জমে। মূলত ধুলোর আস্তরণ থেকেই ঢাকার বায়ু অনেক বেশি দূষিত হয়। এছাড়াও যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটার ধোঁয়া, বর্জ্য পোড়ানো এসব দায়ী।’
কী করলে ঢাকার বাতাস স্বাস্থ্যকর হবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সারাবছরই ভবন নির্মাণ এবং রাস্তা মেরামতের কাজ চলে। যেকোনো ধরনের নির্মাণ কাজ করার সময় বায়ু দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে সেসব নিয়ম পালনের তোয়াক্কা করতে দেখা যায় না। নিয়ম না মানার কারণে বায়ু দূষণ বাড়ছে। এই বিষয়গুলো নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। বিশেষ করে দুই সিটি কর্পোরেশন, সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে, তাহলেই এই অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব।’
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচক পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, আজ শনিবার সকাল ১০টায় আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচকে ঢাকার স্কোর ১৬৭, যা অস্বাস্থ্যকর। এই স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণে ঢাকা পঞ্চম অবস্থানে ছিল। এদিকে বায়ুদূষণে বৃহস্পতিবার ঢাকার স্কোর ছিল ৩৪১। এ মানকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাতাসের মানসূচকে ঢাকার স্কোর ২৬৭, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। মূলত বায়ুদূষণে বুধ ও বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্বের ১২৬ দেশের মধ্যে শীর্ষে ছিল। ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচক অনুযায়ী, যখন কণা দূষণের একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকে তখন বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর সূচক ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এছাড়া ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। এর বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে কারণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে। বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে আইকিউএয়ারের পরামর্শ, ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। খোলা স্থানে ব্যায়াম করা যাবে না। ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হবে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী কোনো এলাকায় পরপর তিন দিন তিন ঘণ্টা যদি বায়ুর মানসূচক ৩০০-এর বেশি থাকে, তাহলে ঐ এলাকায় বায়ুদূষণজনিত ‘স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়। এটা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা পরিবেশ মন্ত্রণালয় কিংবা উভয়ে মিলে নিতে পারে। এই জরুরি অবস্থার সময়ে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা, দূষণকারী শিল্পকারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ, যান চলাচলে কঠোরতা জারি এবং স্বাস্থ্যগত সহায়তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। আরো দুই-এক দিন পরিস্থিতি দেখে আমাদের এখানেও এসব ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শেখ হাসিনার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করত ভারত: রিজভী
বিএনপির জনসভার মঞ্চে পলকের শ্যালিকা
দ্বিতীয়বার রাজপথে নামতে, জীবন দিতে প্রস্তুত আছি
আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২ ইউপি সদস্য নিহত
বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যম ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে কেন?
আগামী বছর নির্বাচিত সরকার আসবে: শিক্ষা উপদেষ্টা