দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:০৭ পিএম

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আজ রবিবার সকাল ১১টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এর উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুবিভাগ) নাফরিজা শ্যামা , বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন এবং মেটলাইফ ফাউন্ডেশন এর কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারিয়া মাহবুব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার ছাত্রজীবনের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কথা বলতে গেলে আমি সবসময় নস্টালজিক হয়ে পড়ি। কারণ পাবলিক লাইব্রেরির পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ছিল আমার বই পড়ার অন্যতম জায়গা। বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে সত্যিকারের আলোকিত মানুষ গড়ার পথ সুগম করবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে আরও এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বই-ই পারে মানুষের হতাশা দূর করে জীবনকে আনন্দে পরিপূর্ণ করতে তাই তিনি সবসময় এই বইপড়া উদ্যোগের সাথে একাত্বতা পোষণ করেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে দেশব্যাপী বইমেলা  ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে সাধুবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুবিভাগ) নাফরিজা শ্যামা বলেন, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে ধন্যবাদ, দেশব্যাপী বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করার জন্য।  আর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই আয়োজনের অংশীদার হতে পেরে গর্বিত।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বক্তব্যের শুরুতেই দেশব্যাপী বইমেলা  ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেটলাইফ ফাউন্ডেশানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশরা চায়ের নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলো আর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বইয়ের নেশা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। প্রায় আড়াই কোটি পাঠককে বিনা পয়সায় বই পড়িয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। বই সবার জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষে এই প্রচেষ্টা। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কাজ করে যাচ্ছে। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন আগত সকলকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেটলাইফ ফাউন্ডেশনকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই আয়োজনের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্যে শেষ করেন। 

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ৩টি গাড়ির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলা এবং সংলগ্ন উপজেলা ও বিভিন্ন শহরে মোট ১২৮টি স্থানে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়। স্থানীয় পর্যায়ে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব পরিচালিত হবে মেটলাইফ ফাউন্ডেশন-এর সহযোগিতায়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত